প্রথম পাতা

প্রাচীন এবং নতুন সভ্যতার মেলবন্ধনে বাগদেবীর আরাধনায় মেতে উঠেছে মা সারদা ভক্ত মন্ডলী

অম্বর ভট্টাচার্য, এবিপিতকমা, কলকাতা, ৯ই ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ঃ     পুজো মানেই নতুন নতুন থিমের সারি। দুর্গা পুজো, কালি পুজোর পাশাপাশি থিমের মোড়কে সেজেছে সরস্বতী পুজোও। তেমনি কলকাতার মানিকতলা বাজারে থিমের জাদু নিয়ে ১৯তম বছরে পদার্পন করল মা সারদা ভক্ত মন্ডলীর সরস্বতী পুজো।

পাঁচদিন ব্যাপী এ পুজোয় থিম মেকার সোমনাথ দাসের অভাবনীয় চিন্তাভাবনায় ফুটে উঠেছে প্রাচীন এবং নতুন সভ্যতার মেলবন্ধন। মণ্ডপের প্রবেশ দ্বারে সুখ এবং শান্তির প্রতীক হিসেবে রয়েছে ঘূর্ণীয়মান সূর্য চক্র। কাঠের সরু আস্তারণ দিয়ে তৈরি সুসজ্জিত মণ্ডপে থাকছে প্রাচীন সভ্যতার হাতছানি। মণ্ডপের উপরিভাগে মনুষ্য মূর্তির অভ্যন্তর থেকে ফেংসুই উইন্ড চাইমের মধ্যে দিয়ে মেলে ধরা হয়েছে ভালো মন্দের মানদণ্ড যা এক কথায় অনবদ্য। পাশাপাশি নতুন সভ্যতার প্রতীক হিসাবে শিল্পীর ভাবনায় উঠে এসেছে বিজ্ঞান প্রযুক্তি। টিস্যু কাগজের কারুকার্যে প্রতিমার চালচিত্রে আলাদা মাত্রা যোগ হয়েছে। শুধুমাত্র মণ্ডপ সজ্জাতেই নয় প্রতিমাতেও রয়েছে চমক। বিশেষ আলোর সাহায্যে প্রায় আট ফুট দৈঘ্যের দেবীর ত্রিনয়ন থেকে বিচ্ছুরিত হচ্ছে জ্ঞানের পুণ্য জ্যোতি। পুজোর পাশাপাশি থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ভজন, ভোগ বিতরণ, পুরস্কার এবং পুস্তক বিতরণ।

এদিন পুজোর সভাপতি প্রকাশ জসওয়াল জানান, “প্রতিবছর আমরা নতুনত্ব কিছু করার চেষ্টা করি। আমাদের একটাই উদ্দেশ্য গরিব বাচ্চাদের সাহায্য করা। প্রতি বছর এটাই করে যাচ্ছি আর আগামী দিনে আমরা এ ধরনের কাজ আরো করতে চাই।”

থিম মেকার সোমনাথ দাস জানান,” সভ্যতা পরিবর্তনশীল। সেটাই আমি এখানে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি।”

এককথায় অনবদ্য থিমে দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে মানিকতলার মা সারদা ভক্ত মন্ডলীর সরস্বতী পুজো।মানিকতলার মা সারদা ভক্ত মন্ডলীর সরস্বতী পুজো উদ্বোধন করেন স্থানীয় বিধায়ক স্মিতা বক্সী।পুজোর পাশাপাশি উদ্যোগক্তারা ছোটদের জন্য বসে আঁকো প্রতিযোগিতা, নৃত্য প্রতিযোগিতার সাথে দরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের খাতা প্রদান ও কম্বল দান। মোট ১৫০ জন কচিকাঁচা বসে আঁকো প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিল এবং ২০০ জন কচিকাঁচা নৃত্য প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। এছাড়া ১৩০ জন দরিদ্রদের কম্বল দান করা হয় এবং ৫০ জন ছাত্রছাত্রীদের খাতা প্রদান করা হয় বলে জানান পুজোর সহ সভাপতি হরিওম জসওয়াল। প্রচারে ঃ সপ্তর্ষী বিশ্বাস। ছবি ঃ বিশ্বজিত সাহা।

       

Leave a Reply