প্রথম পাতা

বাঙালি ঘরানার অতৃপ্ত স্বাদ পূরণের সঠিক ঠিকানা গড়িয়াহাটের “স্বাদে বাঙালি”

অম্বর ভট্টাচার্য, এবিপিতকমা, কলকাতা, ১৩ই এপ্রিল ২০১৯ ঃ     বাঙালি ঘরে বলতে গেলে সেই মা-ঠাকুমার হাতের রান্না আর স্বাদ দুটোই প্রায় বিলুপ্তের পথে। এখনকার গৃহিণীরা সেরকম ঘুগনি বা মোচার চপ, চালের পায়েস বা রাঙা আলু দিয়ে পানতুয়া বা শুঁটকির ঝাল করে খাওনোর কথা ভাবতেই পারে না। আজকাল প্রায় সকলেই ফাস্ট ফুড বা বাড়িতে মাইক্রোতে কিছুমিছু করে খেয়ে নেওয়াতে পোটু।তাই সেই কথা মাথায় রেখে সাম্প্রতিক গড়িয়াহাটে উদ্বোধন হল বিশ্বাস দম্পতি ও ভাওয়াল দম্পতির যৌথ উদ্যোগে “স্বাদে বাঙালি”। নামেই বোঝা যাচ্ছে কি ধরনের খাবার পাওয়া যেতে পারে এখানে। মা ঠাকুমার হাতে সেই হারিয়ে যাওয়া খাবারগুলোকে চেষ্টা করে পরিবেশন করার একটা শুভ উদ্যোগ নিয়েছে এই দুই দম্পতি পরিবার। সাম্প্রতিক এক সাংবাদিক সম্মেলনের মধ্যে দিয়ে এই রেস্তোরাঁর দ্বার উদ্ঘাটন করলেন বাংলা সিনেমার প্রবাদপ্রতীম অভিনেতা সৌমিত্র চ্যাটার্জি অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মডেল মাধবীলতা মিত্র, পৌরপিতা দেবাশিষ কুমার, চন্দন রায় চৌধুরী, মডেল তমোরী চৌধুরী সহ অনেকে। অনুষ্ঠানে এসে মাধবীলতা বলে, আমি মডেল হলেও খেতে খুবই ভালোবাসি কারণ আমি বাঙালি। আর বাঙালি খাবে না তা কখনই হয় না। দেবাশিষ কুমার জানান, এধরনের আরও কিছু রেস্তোরাঁ হলে বাঙালি খেয়ে তৃপ্তি পাবে। এখন তো সেই সব খাবার আর স্বাদ করে খাওয়া হয় না। ছোটবেলায় মায়ের হাতে, ঠাকুমার হাতে, দিদিমার হাতে যেসব খাবার খেয়েছি আজও তা মুখে লেগে আছে। সেইসব খাবারগুলো আজ হারিয়ে যাচ্ছে। তবুও এই রেস্তোরাঁর মধ্যে দিয়ে বাঙালি ফিরে পাবার একটা আশা রাখবে।সতিই তাই যেমন এখানে পাওয়া যাবে লুচি আলুরদম, বাসন্তী পোলাও, মাছের মাথা দিয়ে মুগের ডাল, ধকার ডালনা, ছানার ডালনা, আলু ফুলকপির ডালনা, এঁচোড়ের ডালনা, দই পটল, কাঁচ কলার কোপ্তা, দই কাতলা, পারশে ঝাল, ভেটকি মাছের ঝোল, ভেটকি কাটা চচ্চড়ি, আলু ফুলকপি দিয়ে কই মাছ, কুমড়ো পাতায় চিংড়ি, মুড়ি ঘন্ট, লটে মাছের ঝুড়ি। দাম যে এমন কিছু তাও কিন্তু নয়। একটা ছোট পরিবার (স্বামী-স্ত্রী-সন্তান) এলে মোটের উপর ১০০০ টাকায় বেশ জমিয়ে স্বাদ করে খাওয়া যাবে।আর খেলেই মনে হবেই ঠিক যেন মায়ের হাতের রান্না। প্রচারেঃ বুলান ঘোষ। ছবি ঃ বিশ্বজিত সাহা।

Leave a Reply