প্রথম পাতা

বাংলা তথা ভারত এরকম মুখ্যমন্ত্রী আগে কখনও দেখেনি, প্রাণবন্ত, আবেগপ্রবণ ও ক্ষমাশীল মমতা

অম্বর ভট্টাচার্য, এবিপিতকমা, কলকাতা, ১৭ই মে ২০১৯ ঃ      বর্তমান প্রজন্মের কাছে পশ্চিমবঙ্গের আজকের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে আইডল করে নিজেদের জীবনকে তৈরি করতে পারে। একজন মহিলা যেটা মনে করেন সেটা করেই দেখান, সেটা প্রমাণ করেই ছাড়বেন। একা একটা গোটা দলকে পরিচালনা করা, একটা রাজ্যকে পরিচালনা করা মুখের কথা নয় কিন্তু। রাজ্যের মানুষ এর আগে বহু নির্বাচন দেখেছেন, বহু মুখ্যমন্ত্রীও দেখেছেন কিন্তু মনে হয় না এরকম একজন মুখ্যমন্ত্রীকে দেখেছেন যিনি নির্বাচন এলে দার্জিলিং থেকে সাগর একাই প্রচারের দায়িত্ব তুলে নেন নিজের কাঁধে তা সে বিধানসভা হোক আর লোকসভা। পৌরসভা বা পঞ্চায়েত শুধুমাত্র তার দায়িত্বের মধ্যে থাকে না। সেগুলো দলের অন্যান্য নেতৃত্বদের দায়িত্বে থাকে। এবারের লোকসভাই ধরা যাক। রাজ্যে ৪২টা আসন, তিনি

আগেই বলেছেন এই ৪২টা আসনেই তিনিই প্রার্থী। সত্যিই তাই, দু মাসে গোটা ৪২টা আসনেই তিনি প্রচার করেছেন।কথাও দুবারও করেছেন। একদিনে তিনি তিনটে রোড শো করেছেন, যেমন গতকাল তিনি একসাথে তিনটে রোড শো করেছেন, ১) জোকা থেকে তারাতলা ২) যাদবপুর থেকে গড়িয়াহাট ৩) বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে হাজরা মোড়। মোট রাস্তা ধরলে প্রায় ১৫ থেকে ২০ কিমি হবে। এই দাবদাহে ১৫ কিমি হাঁটা কেউ ভাবতে পারেন? অনেকের কাছে অসম্ভব বা স্বপ্নের বাইরে কিন্তু মমতা ব্যানার্জির কাছে তা খুবই সাধারণ ও সাবলীল। তিনটে রোড শো তিনটে লোকসভা কেন্দ্র। ৩৫ বছর আগে বাংলা দুজন মুখ্যমন্ত্রীকে দেখেছে, জ্যোতি বসু কখনও রোড শো করেন নি আর বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য যদিও রোড শো করেছেন তা একদিনে পায়ে হেঁটে নয়, খোলা জিপে করেছেন। কোন ক্লান্তি নেই এই মহিলার, প্রথমে যে গতিতে হাঁটা শুরু করেছেন শেষ পর্যন্ত গতি একই রেখেছেন। এ যেন সেই অলিম্পিকে ৮০০ মিঃ দৌড়, এক গতিতে দৌড়াতে

হবে। সকলের আগে তিনি, বাকিরা তার গতির সাথে তাল মেলাতে গিয়ে হাফিয়ে পড়লেও হাঁটতে হবেই। তার আবেগ বলতে মানুষ, তিনি মানুষের পাশে থাকতে এসেছেন, মানুষের কথা ভাবতে এসেছেন, মানুষের দুঃখ হরণ করতে এসেছেন এটাই যেন তার একমাত্র লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে যতটা পরিশ্রম করতে হবে ততটা করতে রাজি তিনি। তিনি প্রমাণ করলেন যে তিনি ৪২টা আসনে একমাত্র মানুষের মুখ। তাকে দেখেই মানুষ ভোট দেবে। মানুষ তার কথা শুনবে, হ্যাঁ মানুষ তার কথা শুনতেই জনসভায় ঝাপিয়ে পড়েন। তবে কি প্রধানমন্ত্রীর সভাতে মানুষ ঝাপিয়ে পড়ে নি, পড়েছে কারণ তিনি প্রধানমন্ত্রী তাই, চোখের দেখা একবার দেখা তো যাবে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীও এতগুলো কেন্দ্রে প্রচার করতে পারতেন না। এরকম প্রাণবন্ত, এরকম আবেগপ্রবণ মুখ্যমন্ত্রী রাজ্য কেন গোটা ভারতবর্ষ কখনও দেখেনি। হয়তো অনেকেই বলবেন (নিন্দুকেরা) মুখ্যমন্ত্রী বেসামাল কথা বলে ফেলেন, লাগামহীন, মাত্রাহীন মন্তব্য করে ফেলেন। কথাটা যদি ঠিক

ধরেই চলতে হয় তবে বলতে হয়, সেই সব নিন্দুক রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মত চঞ্চকতা করেন না রাজ্যের এই মুখ্যমন্ত্রী যার নাম মমতা ব্যানার্জি। তাকে যেমন গোটা রাজ্য “দিদি” ডাকে সম্মান করে ঠিক সেরকম তিনিও সেই ডাকে সাড়া দিয়ে “দিদি” হিসাবে শাসন করেন, ধমক দেন আবার প্রয়োজনে প্রশংসাও করেন, কাছেও টেনে নেন, ক্ষমাও করেন, সমবেদনা জানান। এর আগে যে মুখ্যমন্ত্রীদের রাজ্য দেখেছে তারা কখনও মানুষের কথা শোনার জন্য প্রশাসনিক বৈঠক করেন নি। বিধায়ক ও প্রশাসনের উচ্চপদ অফিসারদের নিয়ে বৈঠক করেন নি, বৈঠকে সমস্যার কথা শুনে সমাধান সূত্র প্রকাশ করেন নি। তার জনপ্রিয়তা যে কতটা তা বোঝা যায় ২১শে জুলাই-এর জমায়েতে। তা বোঝা গিয়েছে ২০১১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের পর যখন মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন কোন বিজয় মিছিল হবে না। সর্বত্র চলবে রবীন্দ্রসংগীত। গোটা রাজ্যে ৩৫ বছরের ক্ষোভ থাকলেও, রাগ থাকলেও সব ভুলে সেই রবীন্দ্রসঙ্গীত চালিয়েছে। হ্যাঁ এটা ঠিক মমতা ব্যানার্জি হয়তো প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মত পরিমার্জিত ভাষায় বই প্রকাশ করেন নি, তিনি সাধারণের মত করে নিজের সাধারণ ও সাবলীল ভাষায় বই লিখেছেন যা অনেকের বাড়িতে সংগৃহীত আছে। তিনি হয়তো গণসংগীত তাল, সুর ও ছন্দ বেঁধে গাইতে পারেন না তবে সাধারণের বোঝার মত গান গেয়ে শোনান। তার যে তালবোধ আছে সেটা তিনি প্রমাণ করে দেন। তিনি হয়তো মকবুল ফিদা হসেনের মত না আঁকতে জানলেও অতি সাধারণের বোঝার মত করে আঁকতে পারেন, বঝাতে পারেন যে তার মধ্যে সাংস্কৃতিক বোধ বা শিল্পী সত্ত্বা আছে। আমার মনে আছে ছোটবেলায় পুজোর বিসর্জনের সময় পাড়ার প্রতিমা নিয়ে আমরা পাড়ার বড়দের সাথে হেঁটে টালিগঞ্জ থেকে আনওয়ার শা রোড হয়ে গড়িয়াহাট ছুঁয়ে রাসবিহারী গিয়ে সোজা যেতাম বাবুঘাট। সেটার মধ্যে কোন নিয়ম বা কার্নিভালের গন্ধ ছিল না। তখন শোনা যেত দক্ষিণ কলকাতার যে পুজোগুলো একটু ভাল তারা প্রসেশন করে যাবে। কিন্তু মমতা ব্যানার্জি করলেন একটা পরিকল্পিত কার্নিভাল যেখানে শুধু উত্তর কলকাতা বা দক্ষিণ কলকাতা নয়, রাজ্যের সেরা পুজোগুলো অংশগ্রহণ করে। এটা একটা বাড়তি পাওনা। এরপর তো মানুষের জন্য বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে উন্নয়নের তালিকা আছেই যা এর আগে রাজ্য চোখে দেখা তো দুরস্ত, স্বপ্নেও ভাবে নি। এবার আপনারা বলুন এই রাজ্যে কার জনপ্রিয়তা বেশি, মানুষের কাছে কার গ্রহণযোগ্যতা বেশি? মানুষ ভোট দেওয়ার কথা উঠলে কাকে বেছে নেবে? বিচারক রাজ্যের মানুষ, মার্কশিট তাদের হাতে যা বোঝা যাবে ২৩শে মে।

 

Leave a Reply