খবরাখবর প্রথম পাতা স্বাস্থ্য ও খেলা

ভারতে বর্তমানে বহু শিশু অটিসাম আক্রান্ত, সচেতনতার জন্য তিনদিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন স্ব-ভুমিতে

অম্বর ভট্টাচার্য, তকমা, কলকাতা, ৯ই জানুয়ারি ২০১৯ ঃ      “অটিসাম” রোগটা আসলে কি? কোথা থেকে উপোত্তি আর এর লক্ষণ কি? এই নিয়ে অনেকেরই ধারণা নেই। এটা ঠিক রোগ বলা যায় না এককথায় বলা যেতে পারে ” Autism Spectrum Disorder” অর্থাৎ এটি একটি নিউরোলগিকাল সমস্যা এবং যা শারীরিক বৃদ্ধিকে রোধ করে থাকে। ১৬০টি শিশুর মধ্যে ১ জনের এই সমস্যা বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, ভারতে ৬৮ জন শিশুর মধ্যে ১ জনের দেখা যাচ্ছে। ২০১৭ সালের ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের সমীক্ষা অনুযায়ী প্রায় ১০ লাখ ভারতীয় শিশু এই সমস্যায় ভুগছে। এই সমস্যা সুইস সাইক্রিয়াটিস্ট ইউগেন ব্লেউলের প্রথম খেয়াল করেন। তিনি তার রোগীর মধ্যে Schizophrenia দেখতে পান। এরপর ১৯৪০ সাল নাগাদ আরও দু’জন সাইক্রিয়াটিস্ট লিও কাননের ও হানস এস্পেরগের শিশুদের নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। তারা বর্ণনা করেন যে এধরনের শিশুরা তাদের নিজেদের জগতের সাথে থাকতে বেশি ভালোবাসে, তেমন একটা সামাজিক হয় না, পরিস্থিতির সাথে মানাতে পারে না, একই কথা বা একই লাইন বারে বারে বলতে থাকে যা সেই পরিস্থিতির সাথে বেমানান, বয়সের সাথে দেরিতে কথা বলতে পারা, চোখে চোখ রেখে কথা না বলতে পারা সহ আরও অনেক ধরনের লক্ষণ দেখা যেতে পারে। খুব ছোট বয়স থেকেই শিশুদের মধ্যে এই সমস্যা দেখা যায় যা অল্প হতে পারে বা অতিরিক্ত হতে পারে। নিম্নলিখিত কিছু সমস্যার কথা বলা হল যা দেখলে বোঝা যেতে পারে যে শিশুর মধ্যে অটিসাম আছে কিনা।

Failure to initiate or respond to social interactions, No or delayed speech, Inability to engage and maintain eye contact, Difficulty in understanding body language, hand gesture, facial expressions or subtle non verbal gestures, Inability to form social relationships, Obsession with parts of objects, tools etc, Following ritualistic patterns of behaviour, Lack of interest in surrounding world, Poor social and motor skills, Poor social awareness, Difficulty in sleep, Abnormal sensitivity to sensory inputs such as indifference to pain or heat, adverse response to specific sound or odour etc, Difficulty to transition from one environment to another, Extreme distress as minor changes, Aggressive behaviours that could be self-injurious or harmful for others, Abnormal eating habits. আমাদের দেশে সব থেকে বড় সমস্যা হল এই ধরনের কিছু দেখা গেলে চিকিৎসক থেকে সাধারণ মানুষ বলে ওঠেন এই শিশুরা মানসিক ভারসাম্য। কিন্তু তা নয়, আমাদের দেশে এব্যাপারে সচেতনতার অভাব বলেই এমনটা বলা হয়। এরফলে এই শিশুরা নিজেদের আরও গুটিয়ে রাখে। এই সমস্যার জন্য কিছুটা জেনেটিক ও কিছুটা পরিবেশ দায়ী। এই সমস্যার জন্য সারা বিশ্বে এখনও গবেষণা চলছে কেন এই সমস্যা হয়। এই সমস্যা যে শুধু শিশবেলায় দেখা যায় তা কিন্তু নয় এই সমস্যা ২০ বছর বয়স পর্যন্ত দেখা যেতে পারে। এই সমস্যার এখনও পর্যন্ত কোন চিকিৎসা আনা সম্ভব হয় নি, তবে যেটা করা যেতে পারে যে জায়গায় শিশুর সমস্যা সেই জায়গাকে একটু বেশি নজর দেওয়া। একে বলা হয় Autism Therapy। প্রয়োজনে প্রতি সপ্তাহে ৪০ ঘন্টা একের সাথে এক সান্নিধ্যে থাকা প্রয়োজন। একে বলা হয় Applied Behaviour Analysis। বর্তমানে কেন্দ্র সরকার কয়েকটি প্রকল্প এনেছে এই ধরনের সমস্যাজনিত শিশুদের জন্য। তারা এই শিশুদের অপারক বা প্রতিবন্ধী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এর জন্য সমর্থ স্কিম, নিরাময় স্কিম, উদ্দ্যম প্রভা স্কিম এনেছেন। কিন্তু এর কারণে শুধু সেই শিশুটি নয় শিশুটির পরিবারের সদস্যদের সামাজিক সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। সাম্প্রতিক এক সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সুরেশ সোমানি (Chairman, India Autism Center), ডঃ স্টিফেন শোর (আমেরিকা), জ্যালিন প্রিন্স (আমেরিকা), রবার্ট জে বার্নসটেন, ডঃ নীল মার্টিন, ডেসিরই কামেকা। তারা এই ধরনের সমস্যার কথা নিয়ে বলেন এটা কোন বড় সমস্যা নয় যে এধরনের শিশুদের আলাদা করে রাখা হবে। এরা সাধারণ শিশুদের থেকে কোন অংশে কম নয় বরং এরা অনেক বেশি প্রগতিশীল ও উন্নত। এদেশে সচেতনতার অভাবের জন্য এদের বৈষম্য করা হয়। এই বিষয়ে ১০ই জানুয়ারি থেকে ১২ই জানুয়ারি স্ব-ভূমিতে এক অলোচনা সভার আয়োজন করেছেন রত্নাবলি গ্রুপ। এই সম্মেলনে সারা বিশ্ব থেকে ২৮ জন বক্তা উপস্থিত থাকবেন সাথে থাকবেন এধরনের সমস্যা নিয়ে শিশুদের অভিভাবকরা। সুরেশ সোমানি বলেন আমরা রাজ্য সরকারের কাছে আর্জি রেখেছি ডায়মন্ড হারবার রোডের নিকটে শিরাকোল নামের এক জায়গায় ৫২ একর জমি যাতে দিতে পারে যেখানে এই ধরনের সমস্যা বাহিত শিশুদের দেখাশোনা করা হবে। তাদের বিশেষ পদ্ধতিতে সমস্যা দূরিকরণের চেষ্টা করা হবে। তবে এই সমস্যার জন্য বর্তমান পারিবারিক পরিকাঠামো অনেকটা দায়ী। বর্তমানে স্বামী ও স্ত্রী কর্মরত হওয়ার ফলে শিশুদের উপর নজর দিতে পারেন না। বাড়ি ফেরার পর তারা নিজেরাই ক্লান্ত হয়ে পড়েন ও পরেরদিনের জন্য বিশ্রাম নিতে চলে যান। এছাড়াও বর্তমানে সব পরিবারই নিউক্লিয়ার হয়ে যাওয়ার ফলে শিশুরা দাদু, দিদা, কাকা, কাকিমা, পরিবারের অন্যান্য ভাই বোনদের সাথে একসাথে খেলতে বা থাকতে পারে না। এরফলে তারা অত্যাধিক আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ে। এবং বাবা-মাকে নিজের করে না পাওয়ার ফলে তারা অভিমানে নিজেদের একটা দুনিয়া বানিয়ে নেয়।আর এই কারণেই সম্ভবত শিশুরা এই সমস্যায় বেশি ভুগছে।এই সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এধরনের দুই শিশুর মা কোহলি দত্ত ও প্রিয়াঙ্কা গুহ।তারা অভিযোগ করেন এই ধরনের শিশুদের আরও জড়তা ও আরষ্টতা বাড়িয়ে দেয় স্কুলগুলো। তারা এই সমস্যার কথা শোনা মাত্র স্কুলে ভর্তি নিতে রাজি হয় না যদিও সরকারি আইনে এই ধরনের শিশুদের সংরক্ষনের কথা বলা আছে।সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয় পৃথিবীতে যত সেরা ব্যক্তিত্ব আছে তাদের মধ্যে অধিকাংশেরই এই সমস্যা ছিল।তবে এটা ঠিক এরা যে বিষয় ভালোবাসে তাদের যদি সেটা করতে দেওয়া হয় তবে সেটাতে তারা সেরা হয়ে ওঠেন যেমন এই সমস্যা বৈজ্ঞানিক আইনস্টাইনের ছিল বলে জানা যায়। প্রচারে ঃ পার্ফেক্ট রিলেশনস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *