প্রথম পাতা স্বাস্থ্য ও খেলা

মানুষের শরীরের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হল ত্বক, তাই নিয়ে অনেক মিথ রয়েছে, সচেতন করা প্রয়োজনঃ ডাঃ সন্দীপন ধর

অম্বর ভট্টাচার্য, তকমা, কলকাতা, ৩রা ডিসেম্বর ২০১৮  ঃ       মানুষের শরীরের সব থেকে বড় অঙ্গ হল ত্বক। মানুষে মানুষে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও ত্বকের একটা বড় ভূমিকা আছে। করমর্দনই হোক অথবা আশীর্বাদ কিংবা দীর্ঘ অদর্শনের পরে বন্ধুদের আলিঙ্গন, স্পর্শ তো ত্বকের মাধ্যমেই হয়। আর এই কারনেই ত্বকের বিভিন্ন অসুখ বিসুখ হলে তা যেমন চট করে দেখা যায়, অন্যদিকে নানা জনে নানান কথা জিজ্ঞাসা করায় আক্রান্তের মানসিক কষ্ট দেখা দিতে পারে। আসলে একজিমা বা অ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিস, সোরয়াসিস, শ্বেতী সহ নানান ত্বকের সমস্যা বেশিরভাগ সময়েই ক্রনিক হয়ে দাঁড়ায়। স্কিন ডিজিজ নিয়ে বেশিরভাগ মানুষের মনে নানান ভুল ধারণা আছে। আর এই কারনেই ত্বকের ক্রনিক অসুখ থাকলে বিভিন্ন জনের কাছে নানান কুরুচিকর মন্তব্য শুনতে শুনতে রোগী গভীর হতাশায় ডুবে গিয়ে আত্মহননের পথ পর্যন্ত বেছে নিতে পারে। ত্বক সংক্রান্ত নানান ভুল ধারণে ভেঙ্গে দিতে প্রতিবারের মত এবারেও কলা মন্দিরে ইন্ডিয়ান সোসাইটি অফ পেডিয়াট্রিক ডার্মাটোলজির (আইএসপিডি) পক্ষ থেকে এক সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শকদের ত্বক সংক্রান্ত নানান জিজ্ঞাসার উত্তর দেবার সঙ্গে সঙ্গে ভুল ধারণা নিয়ে সবিস্তার আলোচন করলেন আইএসপিডির প্রেসিডেন্ট ডা সন্দীপন ধর। ডা রঘুবীর ব্যানার্জি ও ডা রাজীব মালাকারও দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। শ্বেতী বা একজিমা যে ছোঁয়াচে নয় এবং কুষ্ঠর সঙ্গে শ্বেতীর কোনও রকম সম্পর্ক নেই এই বিষয় গুলি সহজে বুঝিয়ে দিলেন ত্বক বিশেষজ্ঞগন। বিশেষ করে শ্বেতী নিয়ে আজকের যুগে শিক্ষিত মানুষেরা এমন আচরন করেন যে চিকিৎসক হিসেবে নিজেদেরই লজ্জা করে, বলছিলেন ডা মালাকার। এই নিয়ে অবিলম্বে সচেতন হবার ডাক দিলেন ত্বক বিশেষজ্ঞদের টিম। একজিমা ও সোরিয়াসিস নামক ত্বকের সমস্যা নিয়ে অনেকেই ভুগছেন। সঠিক চিকিৎসায় এই ক্রনিক অসুখগুলিকে সহজেই নিয়ন্ত্রনে রাখা সম্ভব। তবে ওভার দ্য কাউন্টার স্টেরয়েড মলম ব্যবহারের ব্যাপারে সতর্ক করলেন। এর ফলে সাময়িক ভাবে সমস্যার সমাধান হলেও আখেরে ত্বক অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এই ব্যাপারে সচেতনতা গড়ে তুলতে জেনারেল প্র্যাকটিশনার থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ ও মিডিয়াকেও এগিয়ে আসতে অনুরোধ করলেন ডা ধর। ত্বকের অসুখ করলে বিউটি ট্রিটমেন্ট না করে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিৎ বলে জানালেন চিকিৎসকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *