খবরাখবর প্রথম পাতা স্বাস্থ্য ও খেলা

চিকিৎসকরা আজ শাসকদের হাতে আক্রান্ত, প্রশাসন নির্বিকার, মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েও কথা রাখেন নি ক্ষোভ ডাক্তার ফোরামের

অম্বর ভট্টাচার্য, তকমা, কলকাতা, ১০ই জানুয়ারি ২০১৯ ঃ      প্রায়ই শোনা যায় চিকিৎসকরা আক্রান্ত, কখনও রোগীর বাড়ির লোকের হাতে আবার কখনও প্রশাসনের হাতে। এব্যাপারে এক চিকিৎসক সংগঠন “ওয়েস্ট বেঙ্গল ডাক্তার ফোরাম”-এর কিছু সদস্যরা তাদের নিরাপত্তার আর্জি নিয়ে হাজির হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ৩রা এপ্রিল ২০১৮। তিনি তাদের বক্তব্য শুনে বেশ কিছু আশ্বাস দিয়েছিলেন যার মধ্যে ছিল ১) মেডিকেয়ার ২০০৯ আইন লাঘু। ২) ক্লিনিকাল এস্টাবলিশমেন্ট আইন অনুযায়ী ট্রাফিক কিয়স্কে সচেতনতা বাড়ানো যাতে চিকিৎসকদের উপর আক্রমণ না হয়। তারা যেন বিনা সঙ্কচে চিকিৎসা করতে পারে। ৩) চিকিৎসকদের যেন প্রশাসন হয়রানি না করে বা অহেতুক গ্রেফতার না করে। ৪) জুনিয়ার চিকিৎসকরা যেন নিশ্চিন্তে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে কাজ করতে পারে। ৫) মুখ্যমন্ত্রী যেন চিকিৎসকদের উপর আক্রমণ হলে কড়া পদক্ষেপ নেন বা বড়া বার্তা দেন। সাম্প্রতিক প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে “ওয়েস্ট বেঙ্গল ডাক্তার ফোরাম”-এর পক্ষ থেকে জানানো হয় মুখ্যমন্ত্রী আলোচনার সময় যে আশ্বাস দিয়েছিলেন তা রাখেন নি। তিনি বলেছিলেন ছয় মাসের মধ্যে তিনি “রিভিউ মিটিং করবেন যেখানে চিকিৎসক ও প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন এবং আলোচনা করে ঐক্যমত্য হয়ে ব্যবস্থা নেবেন। কিন্তু ছয় মাস অতিক্রান্ত কিছুই হয় নি। তাই আমরা কোন বড় পদক্ষেপ নেওয়ার আগে আপনাদের মাধ্যমে সজাগ করার জন্য একবার বার্তা দিতে চাই। এরপরও যদি কোন ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তবে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব। চিকিৎসকদের উপর যে আক্রমণ হচ্ছে তার অধিকাংশ শাসক দলের কর্মী ও নেতারা জড়িত থাকে। তাদের চিহ্নিত করার পরও কোন প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া চচ্ছে না। প্রতুল মাহাতো ও পুলক দত্ত-র নাম দেওয়া সত্ত্বেও তারা অবাধে ঘুরছে। তাদের গ্রেফতার করা হয় নি। তিনি বর্তমানে রাজ্যস্তর থেকে জাতীয়স্তর নিয়ে বেশি চিন্তিত। আমরা রাজ্যের মেডিকেল কাউনসিল নিয়ে বেশ চিন্তিত কারণ নির্বাচন যেভাবে হয়েছে তাতে বিদায়ী কমিটির হার অবসম্ভাবি কিন্তু কিভাবে নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগে সেই বিদায়ী কমিটিকে দায়িত্ব তুলে দিলেন। এছাড়া ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের বৈষম্য মনোভাব আরও চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের ভুমিকাও সন্তোষজনক নয়। গত ছয় মাসে সারা রাজ্যে ১৯০ জন চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছে যার মধ্যে অধিকাংশ সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক। গত এক বছরে বিভিন্ন কারণে ৫জন চিকিৎসক আত্মহত্যা করেছে। আই এম এ যদি সঠিকভাবে চলতো তবে অন্য কোন সংগঠনের জন্ম হত না। বর্তমানে রাজনীতির মান খুবই নিম্নগামী। চিকিৎসকরা বর্তমানে প্রাণ হাতে নিয়ে চিকিৎসা করছে। বর্তমানে রাজ্যে ৫৩০০০ চিকিৎসক কাজ করে কিন্তু “ওয়েস্ট বেঙ্গল ডাক্তার ফোরাম”-এ ২০০০০ সদস্য আছে। মুখ্যমন্ত্রীর সাথে তর্ক করার জন্য চিকিৎসককে সাসপেন্ড হতে হয়।আবার এমনও চিকিৎসক আছেন যিনি অবসর নিয়েছেন কিন্তু তার পেনশন চালু হয়নি বলে জানা যায়। রাজ্যের হাসপাতালগুলোতে রোগী আনলে সব থেকে বড় সমস্যা হল সরকারি হাসপাতালে বেড নেই যা রোগীর বাড়ির লোকেদের কাছে ক্ষোভের কারণ হয়ে যায়। রাজ্যে সরকারি হাসপাতালে ২ লাখ ৭০ হাজার বেডের প্রয়োজন যেখানে আছে ১ লাখ ৪২ হাজার বেড। এদিকে মুখ্যমন্ত্রী সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল চালু করছেন যা খুবই ভাল পদক্ষেপ। কিন্তু সরকারি হাসপাতালে বেড বাড়ানোর ব্যাপারে কোন হেলদোল নেই। যদি মুখ্যমন্ত্রী এরপরও কোন ব্যবস্থা না নেন তবে আমরা রাস্তায় নেমে মানুষকে সরাসরি বোঝাবো সরকার আমাদের নিরাপত্তার বিষয়ে কি করছে। সামনে নির্বাচন আছে আমরা মানুষের কাছে সরকারের বৈষম্যতা নিয়ে প্রশ্ন করবো। আমরা ইতিমধ্যে মেডিকেল কাউনসিল নির্বাচন নিয়ে আদালতে দারস্থ হয়েছি। প্রয়োজনে চিকিৎসকদের উপর আক্রমণের জন্য একাধিক মামলা করতে বাধ্য হব। এরমানে এটা নয় আমরা সরকার বিরোধী। আমরা সরকারের বহু কাজে সহযোগিতা করে থাকি। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডাঃ রেজাউল করিম, ডাঃ অর্জুন দাসগুপ্ত, ডাঃ সুজিত সিনহা, ডাঃ কৌশিক লাহিড়ি ও পূর্ণব্রত গুণ। প্রচারে ঃ অরুণ রিলেশনস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *