খবরাখবর প্রথম পাতা রাজনীতি

রাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধির সাথে কথার পর সুস্থ, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটের জন্য লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে প্রথমবার সি-ভিজিল ও ইভিএমের সাথে ভিভিপিএটি চালু করবে জানাল নির্বাচন কমিশন

অম্বর ভট্টাচার্য, এবিপিতকমা, কলকাতা, ২রা ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ঃ    ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচন আর তার প্রস্তুতি নিয়ে খুব ব্যস্ত নির্বাচন কমিশন। সাম্প্রতিক পশ্চিমবঙ্গে দুদিন ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সাথে দেখা করলেন চিফ নির্বাচন কমিশনার সুনীল আরোরা ও ইলেকশন কমিশনার অশোক লাভাসা।তারা এই দুদিনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের থেকে বিভিন্ন অভিযোগ নথিভুক্ত করেন। তারা রাজ্যে অবাধে, স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের উদ্দেশ্য রাজনৈতিক দলগুলোর থেকে বিভিন্ন মতামত নেন। কমিশন জেলাভিত্তিক জেলা নির্বাচন কমিশন, পুলিশ সুপার, সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আমলাদের নির্বাচনী কাজ পর্যবেক্ষন করে। একইসাথে তারা আয়কর অফিসার, আবগারি দপ্তরের অফিসার ও বিভিন্ন ব্যাঙ্কের আধিকারিকদের সাথে নির্বাচনের সময় ভোটারদের টাকা দেওয়া, নেশার দ্রব্য ও মাদক দ্রব্য প্রদান এবং উপহার প্রদান নিয়ে সতর্ক থাকতে বলেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল রাজ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটের পক্ষে যথেষ্ট সেন্ট্রাল ফোর্সের কথা বলেছেন। তারা নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার কথা বলেন। কিছু রাজনৈতিক দল রাজ্যের বাইরে থেকে পুলিশ অবসার্ভার রাখার কথা বলেছেন।তারা এমনও বলেন শুধু মেন রোডে রুটমার্চ না করিয়ে নির্বাচনী এলাকার ভিতরের রাস্তা ও পাড়াগুলোতে রুটমার্চের কথা বলেছেন।রাজ্যে লাইসেন্স আগ্নেয়াস্ত্রের উপর নজরদারি চালানোর কথাও বলা হয়েছে। কমিশনের কাছে রাজনৈতিক দলগুলো আর্জি জানায় নির্বাচনের সময় আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকা যেন অনুপ্রবেশকারীদের রোখার জন্য সীল করে দেওয়া হয়।নির্বাচনী বুথগুলোতে যেন পর্যাপ্ত সিসিটিভি-র নজরদারি থাকে এবং পুলিশ দিয়ে লাইনে দাঁড়ানো ভোটারদের পরিচয়পত্র যাচাই করার ব্যবস্থা থাকে। এক রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি বলে ভোটার স্লিপের সাথে একটা পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা হয় অথবা ভোটার পরিচয় পত্রের সাথে আঁধার কার্ড যেন লিঙ্ক করা হয়। এমনকি রাজ্যের সব জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নির্বাচনের আগে সব জামিন অযোগ্য ধারায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে। রাজনৈতিক দলগুলোর সব অভিযোগ শোনার পর নির্বাচন কমিশন আশ্বস্ত করেন এবং এক সাংবাদিক সম্মেলন করে তারা তাদের সিদ্ধান্ত জানান।তারা জানান এবার ভোটার তালিকা নির্ভূল করার চেষ্টা করছে এবং ১৪ই জানুয়ারির মধ্যে ভোটার তালিকা পেশ করা হবে। নির্বাচন কমিশন এমনও জানায় এবার ভোটাররা নিজেরাই ১৯৫০ নম্বরে ফোন করে জানতে পারবে তাদের নাম ভোটার তালিকায় আছে কিনা এবং যদি কোন সংশোধনী থাকে তা ১৯৫০ নম্বরে ফোন করে করা যাবে। এছাড়া nvsp.in ওয়েবসাইটে গিয়ে কোন ভোটার তার সংশোধনী করতে পারবে। নির্বাচন কমিশন এমনও বলে এবার প্রথমবার EVM ভোটের সাথে VVPAT মিলিয়ে দেখা হবে।ভোট চলাকালীন যে কোন বুথে গিয়ে EVM ভোটের সাথে VVPAT মিলিয়ে দেখা হবে। এবার প্রথমবার নির্বাচনে জেনারেল অবসার্ভার, এক্সপেন্ডিচার অবসার্ভার, পুলিশ অবসার্ভার, মাইক্রো অবসার্ভার থাকবে। এবার প্রথমবার কমিশন পশ্চিমবঙ্গে C-Vigil app চালু করবে যাতে যে কোন নাগরিক সরাসরি বুথ থেকে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানাতে পারে।এছাড়া সমাধান, সুবিধা ও সুযোগ আই টি অ্যাপ্লিকেশন তো থাকছেই। এবারের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ৪২টি আসনের মধ্যে সাধারণের জন্য থাকছে ৩০টি, তপশিলি জাতি ১০টি ও তপসিলি উপজাতি ২টি আসন থাকছে। সারা দেশে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২১০টি সাধারণ, তপশিলি জাতি ৬৮টি ও তপসিলি উপজাতি ১৬টি আসন থাকছে। এবার এই রাজ্যে মোট ভোটার সংখ্যা ৬,৯৮,৫৯,৭৩৯ জন যার মধ্যে পুরুষ ৩,৫৭, ৮৩, ৪৬৩ ও মহিলা ৩,৩৯, ৭৫, ৯৭৯জন এবং উভয়লিঙ্গ ১৪২৬ জন ও সার্ভিস ভোটার ৯৮,৮৩৫জন। প্রবাসী বাঙালি ভোটার আছে মাত্র ৩৬জন। ছবি ঃ রাজীব মুখার্জি।

Leave a Reply