You cannot copy content of this page

আকাশ আট শ্রী গুরুদেব নমঃ সিরিয়ালে নতুন গল্প “শ্রী শ্রী আনন্দময়ী মা” শুরু ২৬শে আগস্ট ৬.৩০ মিনিট সোম থেকে শনি

অম্বর ভট্টাচার্য, এবিপিতকমা, কলকাতা, ২৩শে আগস্ট ২০১৯ : শ্রী শ্রী আনন্দময়ী মা জগন্মাতা অন্নপূর্ণা স্বরূপা। আনন্দময়ী মায়ের জন্মগ্রহণের পূর্বে মা মোক্ষদাসুন্দরী আরো চারটি সন্তানের জন্ম দিলেও তাঁরা জন্মগ্রহণের কিছুক্ষন বা কিছুদিনের মধ্যেই মারা যান। তাই আনন্দময়ী মায়ের ঠাকুমা কসবা অঞ্চলের জাগ্রত কালীবাজার কাছে নাতি জন্ম প্রর্থনা করলেন। কিন্তু তিনি সঙ্গে সঙ্গে কালীমাতার মূর্তিতে দেবী অন্নপূর্ণার রূপ দর্শন করেন। তাই তিনি কালীমায়ের কাছে প্রার্থনা জানান তিনিই যেন তাঁর ছেলের সংসারে আসেন। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তিনি এই দেবীমায়ের দর্শনে যেন বঞ্চিত না হন। এদিকে মোক্ষদাসুন্দরী স্বপ্নে শ্রীবিষ্ণুর দর্শন পান। তিনি আসছেন তাঁর সংসারে। যে রাতে আনন্দময়ী জন্মগ্রহণ করেন সেইক্ষণের প্রবল ঝড়ঝঞ্ঝা চলতে থাকলেও মায়ের জন্মগ্রহণের ঠিক পূর্বে সেই ঝড়ঝঞ্ঝা নিমেষে থেমে গিয়ে আকাশ এক আলোছটায় ভরে যায়। সদ্যজাত আনন্দময়ী মায়ের রূপে যেন ছিল আলোর বন্যা। এই উজ্জ্বল রূপের জন্য প্রথমে মায়ের নাম রাখা হয়েছিল নির্মলা। পরে বিভিন্নজনের মায়ের আরো অনেক নামকরণ করেন। মায়ের জন্মসময় বিচার করে দেখা গিয়েছিল বৃহস্পতি, শনি, রবি ও মঙ্গল এই চারটি গ্রহ তুঙ্গী অবস্থানে ছিল। এই জাতক জাতিকারা পুরুষোত্তম ভগবান শ্রীরাম ও লীলা পুরুষোত্তম কৃষ্ণের সমমর্যাদার হন। এই কারণে তিনি ধর্মকাজে, দেবতাদি ও মন্দির প্রতিষ্ঠা, বহুলোককে ধর্মপথে প্রবর্তন, যাগযজ্ঞ, বহু মানুষের ভরণপোষণ ও জগৎগুরু হয়ে ধর্মরক্ষার যত্নবান হয়েছিলেন। শৈশব থেকেই তাঁর শরীরে অলৌকিক ক্রিয়াকর্মের লক্ষণ বা লীলা প্রকাশ পেয়েছিল। মা পরে বলেছিলেন মাতৃগর্ভে তাঁর জন্ম হলেও তা একান্ত ঈশ্বরের ইচ্ছাক্রমেই হয়েছিল। মায়ের জীবনলীলা লক্ষ্য করলে দেখা যাবে যে তিনি জগন্মাতারই অংশস্বরূপা ছিলেন। দিব্যজ্যোতি তাঁর শরীরে বর্তমান ছিল। শৈশবে একবার তিনি মায়ের নির্দেশ মতো ঠাকুরকে প্রণাম করে মঙ্গল চাওয়ার বদলে বলেছিলেন, “হে ঠাকুর, তোমার জাতে আনন্দ হয় সেটাই তুমি কর”। এই অল্পবয়সেই তাঁর কাছে আনন্দবাস্তুটাই মুখ্য বলে মনে হয়েছে। এইভাবেই তিনি একদিন শ্রী শ্রী আনন্দময়ী মা রূপের পূজিতা হলেন জগতে। তিনি বলেছিলেন, “খন্ড আনন্দে প্রাণ তৃপ্ত হইতেছে না, তাই মানুষ অখন্ড আনন্দ পাইবার জন্য অখন্ডের সন্ধান করিতেছে”। শ্রী শ্রী আনন্দময়ী মা জগতে এই অখন্ড আনন্দের বার্তা দিতেই ধরাধামে অবতীর্ণ হয়েছেন।

শ্রী শ্রী মায়ের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন মাধব পাগলা, পরমহংস যোগানন্দ, কমলা নেহেরু, সুভাষচন্দ্র বসু, ইন্দিরা গান্ধী। ১৯৮২ সালে সজ্ঞানে ‘হরি নারায়ণ’ বলে ৮৭ বছর বয়সে মহাসমাধীতে ব্রহ্মলীন হন। ইন্দিরা গান্ধী মায়ের পাদপদ্মে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। চোখে জল নিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘আমার জীবনে মা আনন্দময়ীর আশির্বাদ ছিল প্রধান শক্তি ও ভরসা। আজ আমার মর্মবেদনা জানাবার ভাষা নেই। মায়ের মাহাত্মকথা বিশাল, বিপুল, সীমাহীন ও বৈচিত্রপূর্ণ। আনন্দময়ী মাকে ভক্তরা কখনো ছিন্নমস্তার মূর্তিতে, কখনো ভুবনেশ্বরী মূর্তিতে, কখনো সরস্বতী মূর্তিতে, কেউবা করুণাময়ী রূপে দেখেছিলেন। এই নিয়ে আকাশ আটে শ্রী গুরুদেব নমঃ সিরিজে শুরু হতে চলেছে “শ্রী শ্রী আনন্দময়ী মা” নতুন গল্প ২৬শে আগস্ট থেকে সোম থেকে শনি সন্ধ্যা ৬.৩০ মিনিটে।এই সিরিয়ালের পরিচালনার দায়িত্বে আছেন দেবীদাস ভট্টাচার্য। প্রচারে : স্যাগিটেরিয়াস কমিউনিকেশন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *