You cannot copy content of this page

রাজ্যে সব জেলায় তৃণমূল যুব কংগ্রেসের নতুন কমিটি ঘোষণা হলেও তিন জেলার কার্যকরি সভাপতির পদ কি তবে বিলুপ্ত ?

অম্বর ভট্টাচার্য, এবিপিতকমা, এবিপিতকমা, কলকাতা, ২৪শে জুলাই ২০২০ : রাজ্যের সব জেলায় তৃণমূল যুব কংগ্রেসের নতুন সভাপতির নাম ঘোষণা করা হল। বহু জেলার আগের সভাপতিদের রাজ্যে কমিটিতে নিয়ে এসে সেখানে নতুন সভাপতি নিযুক্ত করা হয়েছে যার মধ্যে হুগলী, উত্তর কলকাতা, দক্ষিণ কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগণা বিশেষ উল্লেখজনক। কিন্তু হুগলী জেলা নিয়ে অনেকের মনে সন্দেহের দানা বাঁধছে। হুগলী, বাঁকুড়া, নদিয়া জেলাকে দুটো ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে হুগলী জেলার প্রাক্তন সভাপতি শান্তনু কোনার, উত্তর ২৪ পরগণার পার্থ ভৌমিক, উত্তর কলকাতার সৌম্য বক্সিকে তৃণমূল যুব কংগ্রেসের রাজ্য কমিটিতে তুলে আনা হয়েছে।যদিও উত্তর ২৪ পরগণায় প্রাক্তন যুব তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি বিজেপির দিকে বেশি নজর দিতে গিয়ে ব্যারাকপুর কেন্দ্রীক হয়ে পড়েছিলেন এবং রাজ্যের খাদ্য মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের প্রায় সমস্ত কাজ করতে গিয়ে সেভাবে জেলা সংগঠনের কাজ দেখতে পারছিলেন না বলেই তাঁর জায়গায় দেবরাজ চক্রবর্তীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দেবরাজ এর আগে মূলত উত্তর ২৪ পরগণা জেলা সহ আরও দুটো জেলার (দঃ ২৪ পরগণা ও কলকাতা) যুবশক্তির দায়িত্বে ছিলেন। উঃ কলকাতায় জীবন সাহার জায়গায় নতুন সভাপতি করা হল অনিন্দ্য কিশোর রাউথ, দঃ কলকাতায় স্বরূপ বিশ্বাসের জায়গায় নতুন সভাপতি হলেন কাউন্সিলার বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত, হুগলী জেলার দুজন নতুন সভাপতি হলেন সুমনা সরকার ও অরিন্দম গুইন। রাজ্য সম্পাদক হিসাবে জায়গা পেয়েছেন সায়নদেব চ্যাটার্জি, সৌম্য বক্সি, সৌরভ বসু, পূজা পাঁজা সহ আরও ১১জন এবং সাধারণ সম্পাদক হিসাবে আছেন ১৫ জন যার মধ্যে জায়গা পেয়েছেন দেবাংশু ভট্টাচার্য, সম্রাট তপাদার, শক্তি প্রতাপ সিং। সহ সভাপতি হিসাবে থাকছেন অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী, শান্তনু ব্যানার্জি, দেবনাথ হাসদা, সুপ্রকাশ গিরি ও অর্পন সাহা। কিন্তু স্বরূপ বিশ্বাসকে একেবারে কমিটি থেকে সরিয়ে দেওয়াটা অনেকের কাছে বেশ অবাকের লাগছে কিন্তু পাশাপাশি স্বরূপ বিশ্বাসের নামে শোনা যাচ্ছে অনেক অভিযোগ জমা হয়েছে। দাদা অরূপ বিশ্বাস মন্ত্রী হলেও কোনভাবে রেহাত করেনি দল। এটাই বড় বার্তা।

কিন্তু সভাপতির নাম ঘোষণা হলেও তিনটে জেলার কার্যকরি সভাপতির নাম ঘোষণা করা হল না। এই নিয়ে দলের মধ্যে শুরু হয়েছে বেশ উত্তেজনা। অনেকেরই প্রশ্ন, তবে কি আর কার্যকরি সভাপতির পদ থাকবে না, নাকি পরবর্তীতে এই কার্যকরি সভাপতিদের নাম ঘোষণা করা হবে। তৃণমূল যুব কংগ্রেসের মূল কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে আমরা জানতে পারি প্রাথমিক ভাবে সভাপতিদের নাম ঘোষণা করা হল, পরবর্তীতে বাকি কোন পদের সিদ্ধান্ত হলে সেই নাম জানিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু যারা এতদিন অভিষেক ব্যানার্জির আশির্বাদধন্য ছিলেন তাঁদের ভবিষ্যৎ কি হবে এই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রাজ্যে তিন জেলার কার্যকরি সভাপতিদের মধ্যে রয়েছেন দঃ ২৪ পরগণা, দঃ কলকাতা, মুর্শিদাবাদ জেলা। দঃ কলকাতার কার্যকরি সভাপতি ছিলেন অভিনেতা অর্নব ব্যানার্জি, দঃ ২৪ পরগণা জেলার কার্যকরি সভাপতি ছিলেন অনিরুদ্ধ হালদার এবং মুর্শিদাবাদের কার্যকরি সভাপতি ছিলেন মাসুদ করিম। এই তিনজনের ভবিষ্যৎ এখন খোদ অভিষেক ব্যানার্জির হাতে না জেলা সভাপতিদের হাতে এটাই দেখার। তবুও একনিষ্ঠ কর্মী হিসাবে এই কার্যকরি সভাপতি নিয়ে যুব সুপ্রিমো কোন একটা সিদ্ধান্তে আসে কিনা সেটা অনেকের প্রশ্ন।তবে সদ্য ঘোষিত কমিটি থেকে একটা চিত্র যাদের নামে আই প্যাকের সার্ভেতে অভিযোগ এসেছে তাঁদের কিন্তু সেই পদ থেকে সরিয়ে নতুন মুখ দিয়েছে অভিষেক ব্যানার্জি। এর থেকে যুবনেতাদের একটা সাফ বার্তা দিতে চেয়েছে দল কেউ কোন দুর্নিতি বা যাদের নামে অভিযোগ আছে তাঁদের বিরুদ্ধে দল ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। দলে থাকতে হলে স্বচ্ছ ভাবমুর্তি নিয়েই থাকতে হবে।

পাশাপাশি অবিষেক ব্যানার্জি “যুবশক্তি”-র উপর বেশি নজর দিতে চাইছে। প্রতিটা যুব যোদ্ধাদের ১০টা করে পরিবারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই যুবশক্তির নিরিখে জোন ফোরের অন্যতম দায়িত্বে থাকা অনিরুদ্ধ হালদার শুধুমাত্র দঃ ২৪ পরগণা থেকে ইতিমধ্যে প্রায় ৫৫ হাজার যুবযোদ্ধা যোগদান করিয়েছেন।এতদিন জেলা সভাপতি শওকত মোল্লা ও কার্যকরি সভাপতি একসাথেই সাংগঠনিক কাজ সামলেছেন কিন্তু এবারের কমিটিতে শুধুমাত্র সভাপতি শওকত মোল্লা একাই দেখবেন গোটা জেলা। তবে একদিকে যুবশক্তির ৫টা জোনের জোনাল হেডদের মধ্যে থেকে কম দক্ষতা দেখিয়ে যদি কেউ জেলা সভাপতি হতে পারে তবে কি কার্যকরি সভাপতিদের জায়গা নিয়েও কিছু চমক কি দেবেন অভিষেক ব্যানার্জি ? অনেকে বলছেন চমক দেবেন বলেই হয়তো এই কার্যকরি সভাপতিদের রাজ্য কমিটিতে নেন নি সুপ্রিমো অভিষেক ব্যানার্জি। সবটাই এখন সময়ের অপেক্ষায়।নাকি শুভাশিস চক্রবর্তীর মত দাপুতে নেতাদের রত্না সূরের মত নেত্রীদের কোঅর্ডিনেটর করে একটা অন্য বার্তা দিতে চাইছে দল? আদৌ হয়তো কার্যকরি সভাপতি পদটাই রাখতে চাইছে না। তবে ভবিষ্যৎ কি অর্নব না অনিরুদ্ধদের মত কার্যকরি সভাপতিদের? সামনে বিধানসভা ও পৌরসভা নির্বাচন কি করবে দল?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *