You cannot copy content of this page

সাম্প্রদায়িকতাকে দূরে রেখে নরেন্দ্রপুর সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির উদ্যোগে অসহায় মানুষদের খাদ্য সামগ্রী দিয়ে পালিত হল “বাবা লোকনাথের তিরোধান দিবস”

অম্বর ভট্টাচার্য, এবিপিতকমা, সোনারপুর, ২রা জুন ২০২০ : আজ ছিল বাবা লোকনাথের তিরোধান দিবস। এই উপলক্ষে নরেন্দ্রপুর গ্রীনপার্ক সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির উদ্যোগে ৬ষ্ঠ বর্ষ পালিত হল।বর্তমানে সোনারপুর উত্তর বিধানসভার মানুষ করোনা ও আমফানের জেরে নাজেহাল অবস্থার মধ্যে দিয়ে জীবন কাটাচ্ছে। করোনার কারণে সদ্য লকডাউন থেকে আনলক অবস্থা হলেও এখনও জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হয় নি। এছাড়া আমফান বহু গরীব মানুষের সামান্য আশ্রয়টুকু থেকে নিরাশ্রয় করে দিয়েছে। এই দুই বিপর্জয়কে মাথায় নিয়ে উদ্যোক্তারা এইদিন প্রায় ১৫০ জন অসহায় মানুষকে ১১টা খাদ্য সামগ্রী তুলে দেয়। কিন্তু সংগঠকের তরফে সব থেকে যেটা নজির সৃষ্টি করেছে তা হল বাবা লোকনাথের এই উৎসবে তাঁরা কোন ধর্ম, জাত, রঙ না দেখে ১৫০ জন মানুষকে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে।এদিন যেমন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ খাদ্য সামগ্রী পেয়েছে একইভাবে সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের মানুষ একই লাইনে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে খাদ্য গ্রহণ করেছে। এই ১১টি খাদ্য সামগ্রীর সাথে উদ্যোক্তারা সকলকে মাস্ক তুলে দেন।

আজকের এই উৎসবে উপস্থিত ছিলেন রাজপুর সোনারপুর পৌরসভার ২৭ নং ওয়ার্ডের বিদায়ী পৌরপিতা তথা সি আই সি এবং বর্তমানে প্রশাসকমণ্ডলীর অন্যতম সদস্য নজরুল আলি মন্ডল, সোনারপুর উত্তর বিধানসভার তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি পাপাই দত্ত, সোনারপুর উত্তর বিধানসভা তৃণমূল কংগ্রেস ছাত্র পরিষদের সভাপতি সমরজিত ব্যানার্জি, দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলা জয়হিন্দ বাহিনীর সভাপতি পল্লব কান্তি ঘোষ, গড়িয়া টাউন আই এন টি টি ইউ সি আহ্বায়ক পিন্টু দেবনাথ, অজু সরকার সহ অনেকে। গ্রীনপার্ক সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির সম্পাদক বিশ্বজিত দাস (নন্দ), গ্রীনপার্ক উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের সম্পাদক অরুণ দাস (বাঘা), অভিজিৎ দাস, অতনু ভট্টাচার্য, দিলীপ হালদার, সন্তোষ সাহানী, গুড্ডু সিং, অসীম দাস, কুটন সরকার, বিজয় দাস, উজ্জ্বল দাস, অভিজিৎ গাঙ্গুলি, পল্টু প্রধান, বিক্রম মন্ডল, ঈশান হালদার, বাবু মজুমদার, কানাই সেন, সমীর সাহা, মন্টি ব্যানার্জি, বিশ্বরূপ ও রণজিৎ সহ অনেকে।

এব্যাপারে বিশ্বজিত দাস বলেন, যে পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে মানুষ বর্তমানে চলছে তাতে মানুষের হাতে অর্জিত আয় বা সঞ্চিত আয় বলে হাতে কিছুই নেই।লকডাউন পরিস্থিতিতে মানুষ আজ একেবারে অসহায়। আমরা সারা বছর ধরে সামাজিক কাজ করে থাকি তাই আজ বাবা লোকনাথের তিরোধান দিবস উপলক্ষে এই কর্মসূচী গ্রহণ করেছি। এখানে আমরা সকলকে মানুষ হিসাবে গন্য করেছি, এর মধ্যে কোন ধর্ম বা জাতের প্রাধান্য না দিয়ে এই অনুষ্ঠানকে সার্থক করতে সক্ষম হয়েছি আমাদের অসংখ্য সদস্যদের সহযোগিতায়। আমরা বিধায়কের উদ্যোগে আগামীকাল সবজি বিতরণ করবো এবং পরশুদিন খেয়াদহ ও কামরাবাদ পঞ্চায়েত অঞ্চলে প্রায় ২৫০০ দুর্গত মানুষের হাতে খাদ্য সামগ্রী তুলে দেবো।

নজরুল আলি মন্ডল বলেন, মানুষ আজ লকডাউন পরিস্থিতি থেকে সবে মাত্র স্বস্তি পেয়েছে ঠিকই কিন্তু মানুষের হাতে টাকা নেই। সরকার যথেষ্ট চেষ্টা করছে মানুষের পাশে দাঁড়াতে কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে গোটা রাজ্যের মানুষকে সাহায্য করতে হচ্ছে। তাই আজকের এই মহান দিনে আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। মমতা ব্যানার্জি ভারতবর্ষের একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী যিনি আমফান দুর্গতদের অ্যাকাউন্টে ২০০০০ টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করে দিতে পেরেছে। প্রধানমন্ত্রীর মত আশ্বাস দিয়ে ফাঁকি দেন নি। বর্তমানে করোনার যা পরিস্থিতি তাতে আমাদের সকলকে করোনাকে সঙ্গী করেই বাঁচতে হবে এবং চলতে হবে তাই বাধ্য হয়েই লকডাউনকে শিথিল করে আনলক করতে হয়েছে। আমি ভগবানের কাছে প্রার্থনা করবো সকলে যেন সুস্থ থাকেন ও ভাল থাকেন।

Do follow us on twitter : https://t.co/ctkI0gULcS?amp=1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *