You cannot copy content of this page

চতুর্থ দফায় লকডাউন বাড়ল শর্ত অনুযায়ী, দেখে নিন একনজরে কি কি ছাড় আছে, তবে জারি থাকবে নাইট কার্ফু, বিবেকহীন অমানবিক প্রধানমন্ত্রী

অম্বর ভট্টাচার্য, এবিপিতকমা, কলকাতা, ১৭ই মে ২০২০ : ২২শে মার্চ গোটা ভারতে করোনা ভাইরাসের মোকাবিলার জন্য লকডাউন ঘোষণা করেন কেন্দ্র সরকারের তরফে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এরপর আরও দুবার লকডাউনের সময়সীমা বাড়ানো হয় কেন্দ্র সরকারের তরফে। এবার তার চতুর্থ দফা, আজ ফের লকডাউনের সময়সীমা বাড়ানো হল পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করার পর। একসময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন লকডাউন জারি থাকলে ১৬ই মে-র পর ভারতে কেউ আর করোনায় আক্রান্ত হবেন না। কিন্তু যদি আমরা ২০শে এপ্রিলে চোখ রাখি সেদিন করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন ১৭,৬১৫ জন আর আজ ৫৪দিন পর দেখা যাচ্ছে ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছে গেছে ৯২,২৩৯। ২০শে এপ্রিল ভারতে করোনায় মৃত্যু হয়েছিল ৫৫৯ জনের আর আজ ১৭ই মে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৯১১। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী “আচ্ছে ভারত” দেখালেন, করোনা ১৬ই মে-র পর থামলো তো না বরং আরও বেড়ে গেল। আর ক’দিনের মধ্যে ভারতে ১ লাখ মানুষের উপর আক্রান্ত হতে চলেছে।২০শে এপ্রিল বিশ্বে আক্রান্তের নিরিখে ভারত ১৬ তম স্থানে ছিল আর আজ যখন প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী করোনায় আক্রান্ত আর হবে না তখন ভারতের স্থান ১০ম স্থানে। কি বিশ্লেষণ করে প্রধানমন্ত্রী করেছিলেন তা তিনি নিজেই জানেন। কোন ম্যাজিকে তিনি ১৬ই মে তারিখটা ঘোষণা করেছিলেন তা শুধু তিনি বলতে পারবেন। এছাড়া “লকডাউন” শব্দটা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর যতবার বিদেশ ভ্রমণে গিয়েছিলেন তাতে তিনি ভালোই লপ্ত করেছেন, কিন্তু লকডাউনে বিদেশের দেশগুলো কি নীতি গ্রহণ করেছেন সেটা তিনি গ্রহণ করতে পারেন নি। সম্পূর্ণ লকডাউন বলতে বিদেশে বলা হয়, প্রতিটা মানুষের কাছে খাবার ও অর্থ পৌঁছে দেবে সরকার। সেটা সরকারের দায়িত্বে বর্তায়। কিন্তু এখানে দেশের প্রধানমন্ত্রী তাঁর দেশের কাছে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেছিলেন, “যদি আপনার বাড়ির পাশের মানুষটা খেতে না পায় তবে তাঁকে আপনি খেতে দিন।” সরকারে বসবেন কে আর অসহায় অভুক্ত মানুষকে খাওয়াবে কে? কি নীতি কেন্দ্র সরকারের। মানুষকে আর্থিক প্যাকেজ না দিয়ে উলটে তিনি পরিযায়ী শ্রমিকদের ভিন রাজ্য থেকে নিজের বাড়িতে ফিরতে টিকিট কেটে ফিরতে হবে বরং ভাড়া বেশি দিয়ে ফিরতে হবে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন এই রাজ্যে কেউ অভুক্ত থাকবে না। তাদের জন্য বিনা পয়সায় চাল দেওয়া হবে। এছাড়া পরিযায়ী শ্রমিকদের কোন খরচ করে বাড়ি ফিরতে হবে না। সব খরচ বহন করবে রাজ্য সরকার। এরপর রাজ্যের বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ মন্তব্য করেন, রাজ্য সরকার শুধু টাকা চায়, কাজ করবে না, গরীবদের পকেটে টাকা দিতে হবে। এটা হয় না। কেন্দ্র সরকার কাউকে কোন টাকা দেবে না।এই সময় তিনি রাজনীতি করছেন। তিনি বলছেন “এক দেশ, এক রেশন কার্ড”। যেখানে তিনি সামান্য টাকা দিতে পারছেন না এই মহামারীর সময় , খাবার জোগাতে পারছেন না সেখানে তিনি রেশন কার্ড নিয়ে তিনি উঠে পড়ে লেগেছেন। তিনি “জনধন” অ্যাকাউন্টে মাত্র ৫০০টাকা করে দিয়েছেন, যদিও তার অধিকাংশটাই পেয়েছেন মহিলারা ও কন্যা সন্তানরা। তবে কি বাকিরা টাকা পেতে পারে না? আর সেটা মাত্র ৫০০ টাকা, আজকের দিনে ৫০০ টাকায় কি হয় সেটা প্রধানমন্ত্রী বলতে পারবেন? তিনি যেদিন চা বিক্রি করতেন সেদিন যা দাম নিয়েছেন আর মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে অবধি কি তিনি সেই একই দাম নিয়েছিলেন? দাম বাড়ান নি।তিনি আজ দেশের মানুষকে এই অবস্থায় আত্মনির্ভরতার কথা।

এবার চতুর্থ দফার লকডাউন চলবে ৩১শে মে পর্যন্ত। এই সময় নাইট কার্ফু চালু করল কেন্দ্র সরকার। এর থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের বিপদ আরও বেড়ে গেল। অসহায় মানুষগুলো যার যার রাজ্যে পায়ে হেঁটে ফিরতে চাইছে তাঁরা আর ফিরতে পারবে না। রাতে চলার পথে পুলিশের কাছে হেনস্থা হবে। নাইট কার্ফুতে রাত ৭টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত জারি থাকবে। অন্যদিকে আবার কেন্দ্র সরকার একই সাথে বলছেন স্থানীয় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করতে পারে। কার্ফু বলতে কেউ রাস্তায় চলতে পারবে না আর ১৪৪ ধারা অনুযায়ী পাঁচজনের বেশি মানুষ একসাথে হাঁটতে পারবে না। দুটো আইনের সাথে কোন মিল নেই।

এবার নীচে দেওয়া নোটিসে দেখে নিন কোন কোন জায়গায় নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।১) আন্তঃরাজ্য ও আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার বিমান পরিষেবা বন্ধ থাকবে।শুধুমাত্র এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ও মেডিক্যাল কারণে বা প্রতিরক্ষা কারণে বিমান চলবে। ২) মেট্রো পরিষেবা বন্ধ থাকবে। ৩) স্কুল, কলেজ, শিক্ষানিকেতন, ট্রেনিং স্কুল, কোচিং ক্লাস বন্ধ থাকবে। শুধুমাত্র অনলাইন ও ডিস্টেন্স এডুকেশন জারি থাকবে। ৪) হোটেল, রেস্তোরাঁ, ক্যান্টিন বন্ধ থাকবে। শুধুমাত্র হোম ডেলিভারির জন্য কিচেন খোলা থাকবে। ৫) সিনেমা হল, শপিং মল, জিম, সুইমিং পুল, বিনোদন পার্ক, থিয়েটার, বার, অডিটোরিয়াম, বিয়ে বাড়ি সব বন্ধ থাকবে। শুধুমাত্র স্পোর্টস কমপ্লেক্স ও স্টেডিয়া খোলা থাকলেও সেখানে কোন দর্শক প্রবেশ নিষেধ। ৬) সামাজিক, রাজনৈতিক, ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় জমায়েত বন্ধ। ৭) সব ধর্মীয় জায়গা, পুজো প্রদান করা বন্ধ।

Visit us at : abptakmaa.com,
Follow us at : https://www.facebook.com/abptakmaa.newspaper/
https://twitter.com/abptakmaa

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *