প্রথম পাতা বাংলার মুখ রাজনীতি

মমতা ব্যানার্জি ধর্ণা নামক যে নাটক শুরু করেছিলেন তা শেষ হল, খুশি হতাম যদি তিনি এই মঞ্চ থেকে প্রতারিতদের টাকা উদ্ধারের ঘোষণা করতেনঃ অধীর

অম্বর ভট্টাচার্য, এবিপিতকমা, কলকাতা, ৫ই ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ঃ    মমতা ব্যানার্জি আই পি এস অফিসার তথা কলকাতা পুলিশের কমিশনার রাজীব কুমারের সি বি আই গ্রেফতারি নিয়ে ধর্মতলায় বিজিপি-র বিরুদ্ধে সত্যাগ্রহ ধর্ণায় বসেছিলেন। সেই ধর্ণা নিয়ে কংগ্রেস সাংসদ ও প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী কটাক্ষ করে বলেন, মমতা ব্যানার্জি যে ধর্ণা নামক নাটক শুরু করেছিলেন তা তিনি আজ শেষ করলেন, খুশি হতাম যদি ধর্ণা মঞ্চ থেকে ঘোষণা করতেন বাংলার লক্ষ লক্ষ চিটফান্ড কান্ডে প্রতারিত মানুষের পাশে তিনি থাকবেন এবং তাদের অর্থ উদ্ধারের জন্য সচেষ্ট হবেন। এর সাথে চিটফান্ড মালিক ও তাদের সহযোগিতা যারা করেছে তা সে যে দলের মানুষই হোন তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা করবেন, তা তিনি করেন নি।তিনি ধর্ণা মঞ্চের মধ্যে দিয়ে সারা ভারতবর্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছেন মাত্র। দুদিন ধরে তিনি তার বাজার তৈরি করলেন। এই বাজার শেষ করার পর তিনি বসে থাকতে রাজি নন। এরপর তিনি দিল্লিতে আবার ধর্ণার নাটক শুরু করবেন কারণ কলকাতার বাজার তেমন জমে নি যেমন চেয়েছিলেন। এর আগে তিনি যখন ধর্ণা মঞ্চে বসেছিলেন তখন তিনি সিবিআই-এর দাবিতে ধর্ণায় বসেছিলেন। সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় তার প্রতি যে মানুষের আবেগ ছিল এবারের ধর্ণা মঞ্চ থেকে তিনি বুঝে গেছেন যে আগের মত মানুষের আবেগ, সহানুভূতি এবার আর তৈরি করা গেল না। তিনি অনিদৃষ্টকালের ধর্ণার নাম করে ৭২ঘন্টার মধ্যে তিনি বুঝে গেছেন বাংলার মানুষের আবেগ তার এই ধর্ণার সাথে সম্পর্কিত হল না। ভাবতে খারাপ লাগে যে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন ডাঃ বিধানচন্দ্র রায় সেই বাংলার আরেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি যিনি এক পুলিশ অফিসারকে বাঁচানোর জন্য ধর্ণা করতে বসে নাটক করে গেলেন। মনে হচ্ছে যেন তিনি এক বিশাল বিপ্লব করলেন। আমার প্রশ্ন যে আপনার মুখ্যমন্ত্রীত্ব কালে অস্বীকার করতে পারেন যে বাংলার মানুষ চিটফান্ড কান্ডে প্রতারিত হয় নি। আপনি কি অস্বীকার করতে পারেন যে আপনার দলের বড় বড় মাথারা এই চিটফান্ড কান্ডে জড়িত নয়। আপনি একজন কেন্দ্র পরিচালিত পুলিশ অফিসারের জন্য ধর্ণায় বসছেন কিন্তু আপনার দলের সুদীপ ব্যানার্জি, তাপস পাল, মদন মিত্রের জন্য তো একবারও এধরনের ধর্ণা, আন্দোলন, বিপ্লব করার কথা মনে হয় নি। তবে একজন পুলিশ অফিসারের জন্য আপনার প্রতিবাদ কেন এই প্রশ্ন আসবে, এর পিছনে রহস্য কি সেই প্রশ্নও আসবে। তবে কি আপনি কাউকে বাঁচাতে চাইছেন এই প্রশ্নও আসবে। এক পুলিশ অফিসারের জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আপনি যে একজন অগ্নিকন্যা তা প্রমাণ করার জন্য খুব চঞ্চল হয়ে পরেছিলেন এই প্রশ্নও আসবে। আপনি কি চাইছেন সারা ভারতে নজর আপনার দিক যাতে আসে, যাতে আপনাকে নরেন্দ্র মোদীর বিকল্প হিসেবে চিন্তা করে সেই উদ্দেশ্য কি কাজ করেছে? আমরা জানি আমরা প্রতিবাদ করছি, সমালোচনা করছি যা আপনার ভাল লাগছে না। সামনে নির্বাচন আসছে তার জন্য আপনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আমরা জানি মুর্শিদাবাদ, মালদা যেখানে কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি আছে সেখানে কংগ্রেসের কর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে আপনি কংগ্রেসকে দুর্বল করতে চাইছেন। এর জন্য আমরা প্রস্তুত কারণ বাংলায় গণতন্ত্র নেই আগেও বলেছি, আজও বলছি। গণতন্ত্র যদি থাকতো তবে বিপক্ষ দলের লোকেরা রাজনীতি করবার জন্য সুযোগ পেত।রাজনৈতিক আন্দোলন করার জন্য বাধাপ্রাপ্ত হত না। কোন দলীয় কর্মসূচি পালন করতে তাদের পরিকল্পিত ভাবে বাধা দেওয়া হত না। রাজ্যে বিভিন্ন জেলায় কংগ্রেস কর্মীরা আপনার সাজানো মিথ্যা মামলায় জেল খাটছে, মাদক পাচার কেসে জেল খাটছে। এগুলো কি আপনি ন্যায় কাজ করেছেন? নির্বাচনের আগে আপনি চাইছেন বিরোধী দলের কর্মীদের মধ্যে মিথ্যা কেসে ফাঁসানোর একটা ভয় ভীতি তৈরি করবার চেষ্টা করছেন যা আমরা জানি। আমরা কিন্তু চুপ করে বসে থাকবো না। আপনি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, আপনার ক্ষমতা থাকলে আপনি গণতান্ত্রিক মঞ্চে মানুষের মতামতকে পুঁজি করে আপনি লড়াই করুন। তাতে আপনি সব আসনে জয়ী হন তাতে কোন আপত্তি নেই কিন্তু যদি আপনি মনে করেন আপনি ভয় দেখিয়ে, আতঙ্ক ছড়িয়ে কংগ্রেসকে ভয় দেখাবেন তবে বলবো শতাব্দী প্রাচীন কংগ্রেসের সম্পর্কে আপনার ধারণা ঠিক নেই, আপনি ভুল করবেন।রাজীব কুমারের হয়ে এই ধর্ণা নিয়ে আজ এই প্রশ্ন কিন্তু শুধু বিরোধীদের মধ্যে নয় তৃণমূল দলের বহু কর্মী, সমর্থক ও নেতাদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে।

Leave a Reply