প্রথম পাতা

এখন হাতে ভাতে বাঙালিয়ানার বর্ষবরণের সঠিক ঠিকানা সল্ট লেকের গোল্ডেন টিউলিপ

বিশ্বজিত সাহা, এবিপিতকমা, কলকাতা, ১৩ই এপ্রিল ২০১৯ ঃ বাঙালি এক সময় ছিল রসে বসে বাঙালি কিন্তু যুগের বিবর্তনে এখন বাঙালি হয়েছে হাতে ভাতে, মানেটা ঠিক ধরতে পারলেন না তো? জানতাম। হাতে ভাতে মানে হল বুফেতে বাঙালি। এখন বাঙালি হাতে প্লেট তুলে ভাত খায় কারণ বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বন, আর তার সব থেকে বড় উৎসব বর্ষবরণ। এইদিন পেট পুরে না খেলে হয়। একেবার পাত পেড়ে কবজি ডুবিয়ে যদি বাঙালি না খায় তবে মনটা কিছুটা ভার হয়ে যায়। কিন্তু তা খাবে কোথায়। এবারের বর্ষবরণের দিনে এরকম খাবারের সঠিক ঠিকানা হল সল্ট লেকের সিটি সেন্টারের কাছে গোল্ডেন টিউলিপ রেস্তোরাঁ। আগামী ১৩, ১৪ ও ১৫ই এপ্রিল বাঙ্গালিয়ানার যদি স্বাদ নিতে হয় তবে তো যেতেই হয় এই বিশেষ দিনে বিশেষ আহারের জন্য। আর গেলেই তৃপ্ত হবে বাঙালির অতৃপ্ত রসনা। মেনু কি থাকছে এই বিশেষ দিনগুলোতে একবার চোখে দেখে নেওয়া যাক। প্রবেশ করলেই আতিথায়তায় আপনার মন ভরে যাবে।প্রবেশদ্বারেই পাওয়া যাবে আম পোড়া সরবত, ঘোল, গন্ধরাজ লেবুর সরবত।ভোজনের শুরুটা একেবারে বাঙ্গালিয়ানায় ভরা। মাটির থাকায় শুরু হচ্ছে মেনকোর্সের তালিকা থাকছে পাপড়ি চাট, প্রীন সালাড, বেঙ্গল গ্রাম সালাড, ওয়ালডর্ফ সালাড, মিক্সড গ্রীন সালাড। এত সালাড দেখলে তো খাবারের ইচ্ছে আরও বেড়ে যায়। থাকছে মুলি গাথাওয়ানি, চিকেন লাং ফাং, মাছের ডিমের বড়া, চিংড়ি পাটিসাপটা, পুটলি মুরগি, মুচমুচে বেগুনি, কুমড়ো ফুলের বড়া, পোস্ত ভরা পেয়াজ বড়া, বাদাম দিয়ে শাক ভাজা, কুড়মুড়ে আলু ভাজা, সাবেকি শুক্তোনি, মুগডালের সোনালি বাহার, ঝিঙে আলু পোস্ত, এঁচোড়ের কিংবদন্তী, নারকেলি কদলি পুষ্প ঘন্ট, কোষে কষা আলুর দম, নারকেল দিয়ে ছোলার ডাল, মালাই নারকেল দিয়ে চিংড়ি, মাংস ভরা পটলের দোরমা, চিরন্তনি ভেটকি রসা, সর্ষে পার্ষে, ধনে পাতা দিয়ে মাংসের পেলবতা, স্বাদে ঠাসা মুরগী কষা। কিন্তু এতো পদ খাবেন কি দিয়ে? থাকছে লুচি, হিং-এর কচুরি, জিমিদারি পোলাও, রাজনন্দিনী, ঘি ভাত। এতো একেবারে জমিদারি মেজাজে খাওয়া দাওয়া। কিন্তু খাবার শেষে শেষ পাতে তো কিছু চাই? থাকছে থাকছে। এবার থাকছে কাঁচা আমের চাটনি, আমসত্ত্ব খেজুরের চাটনি, মিক্সড ফুড চাটনি, পাঁপড় ভাজা।আর থাকছে মিষ্টি দই, রসগোল্লা, আম সন্দেশ, ছানার পায়েস, মালপোয়া, রাবড়ি, চালের পায়েস, আইসক্রিম ও পান। এত খাবার একসাথে দেখলেই তো পেট ভড়ে যাবার উপক্রম বাঙালির কিন্তু খরচ কত? নিশ্চয়ই অনেকেই হবে? না একদম না, হোটেলের জেনারল ম্যানেজার সুমন্ত মাইতি ও ব্যাঙ্কোয়েট ম্যানেজার সৌম্য ব্যানার্জি জানান, আমরা আতিথেয়তায় বিশ্বাস রাখি আর বিশেষ নজর দিয়ে থাকে স্বাদ ও গুণমানে। ১৩ ও ১৪ই এপ্রিলে শুধু নৈশভোজের ব্যবস্থা থাকছে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১.৩০। এবং ১৫ই এপ্রিল সারাদিন থাকছে বাঙালি ভোজ দুপুর ১২.৩০টা থেকে ৩.৩০ ও সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১.৩০। যখনই খাবেন খরচ মাত্র ৯৯৯টাকা। খুব কি খরচ হল? একবার বাজারে গিয়ে পদের সাথে দামটা মিলিয়ে দেখুন বুঝতে পারবেন কতটা সস্তা।ছবি ঃ বিশ্বজিত সাহা।

 

Leave a Reply