খবরাখবর প্রথম পাতা রাজনীতি

কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছে মুর্শিদাবাদের হুমায়ুন কবীর

অম্বর ভট্টাচার্য, তকমা, মুর্শিদাবাদ ঃ দীর্ঘদিন ধরে কংগ্রেস রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। মুর্শিদাবাদ জেলায় অতীশ সিংহ থেকে অধীর চৌধুরীর সভাপতি হিসেবে দেখেছেন। এমনকি তার বহুদিনের সঙ্গী মান্নান হোসেনকেও তিনি দেখেছেন। ১৯৮২ সাল থেকে বেলডাঙার ২ নং ব্লকের শক্তিপুরের হুমায়ুন কবীর। প্রায় ৩০ বছর ধরে কংগ্রেস রাজনীতিকে মেনে চলেছেন। ২০১১ সালে রেজিনগর থেকে তিনি কংগ্রেসের বিধায়ক হন। এরপর কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন তিনি।অবশেষে তিনি পরিবর্তনের সরকারে মন্ত্রীও হন তিনি।কিন্তু ছয় মাস পর উপনির্বাচনে নিজেকে প্রমাণ করতে নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে পরাজিত হয়। সেই সময় তিনি আধীর চৌধুরীর বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ করেন।এমনকি তিনি অভিযোগ করেন অধীর চৌধুরী প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছেন।এরপরই তার সাথে তৃণমূলের দুরত্ব বাড়তে থাকে। দলবিরোধী কার্যকলাপের জন্য তাকে শো কজ করে শাসক দল। তিনি ফিরে আসেন তার পুরানো কংগ্রেস দলে। এবার পঞ্চায়েত নির্বাচনে তিনি জেলা পরিষদে কংগ্রেসের প্রার্থী হন। কিন্তু ভোটের দিনই তিনি নিজেকে প্রার্থী পদ থেকে নিজেকে তুলে নেন। তিনি সাফ জানান, কংগ্রেস এখন অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় কংগ্রেস দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মার খাচ্ছে। কংগ্রেসের সাথে আর রাজনীতি করা যায় না। তৃণমূলের সাথে লড়াই করতে গেলে কংগ্রেসে থেকে করা যাবে না। তিনি তারপরই মুর্শিদাবাদ জেলা সহ-সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিজেপিতে যোগদান করবেন বলে। এখন মুকুল রায়ের উপর আস্থা রেখে বিজেপিতে গিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই-এ নামতে চলেছেন। তার একটাই প্রতিজ্ঞা, তৃনমূল তার সাথে যে দুর্ব্যবহার প্রতিশোধ নিতে চাইছেন। পঞ্চায়েত নির্বাচনে তার নেতৃত্বে বাকি পঞ্চায়েত আসনে শাসকের গুন্ডামির সাথে পুলিশের তান্ডবে নির্বাচনে লড়াই করা সম্ভব নয়। তৃনমূল সারা রাজ্যে সন্ত্রাস চালিয়ে পঞ্চায়েত দখল করছে। শাসকদের সাথে পুলিশ যুক্ত হয়ে ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছে। যে রাজ্যের রক্ষক তিনিই যখন ভক্ষক হয়ে ওঠে তখন কার কাছে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ে অভিযোগ করবো। পুলিশ দাঁড়িয়ে থেকে যখন ভোট লুট করেছে তখন কে লড়বে? প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীকে এব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, কে কোন দলে থাকবে আর যাবে সেটা সম্পূর্ণ তার নিজস্ব সিদ্ধান্ত। রাজনীতিতে কেউ কাউকে আটকে রাখতে পারে না। তবে শাসকরা যে বিরোধীদের উপর অকথ্য অত্যাচার চলাচ্ছে তা আর বোলার নয়।অধীর চৌধুরীর সাধের রাজত্ব মুর্শিদাবাদ আর যে তার নেই তা তিনি বেশ বুঝতে পারছেন। এক এক করে সব বিধায়ক কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিচ্ছে। অতএব সে অর্থে মুর্শিদাবাদে আগামিদিনে তিনি ছাড়া আর কেউ কংগ্রেস করবে না। ফের তাকে নতুন করে দল সাজাতে হবে। তার নিজের শ্যালক অরিত মজুমদার, একসময়ের প্রিয় সঙ্গী ডেভিড (অপূর্ব সরকার), সাওনী সিংহ সব দলত্যাগ করে তৃণমূলে চলে গেছে।

Leave a Reply