বাংলার মুখ

যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী মিমি চক্রবর্তীর নাম প্রকাশ হতেই কর্মীরা থমকে গেল

অম্বর ভট্টাচার্য, এবিপিতকমা, কলকাতা, ১২ই মার্চ ২০১৯ ঃ         ভারতের ১৭তম লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে সবার প্রথম প্রয়ার্থী তালিকা প্রকাশ করল তৃণমূল কংগ্রেস কারণ তারা জানে হাতে বেশি সময় নেই। তবে মমতা ব্যানার্জি-র প্রকাশিত তালিকা কানে শুনে যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের বহু কর্মী বেশ মর্মাহত হলেন। তারা আশা করেন নি যে এই কেন্দ্রের প্রার্থী হবেন অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। অনেকের মত মিমি চক্রবর্তীর থেকে অনেক যোগ্য প্রার্থী ছিল যাদবপুর কেন্দ্রের জন্য। যাদবপুর কেন্দ্র কলকাতার মধ্যে একটা গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র, যদিও এই কেন্দ্র দঃ ২৪ পরগণা অন্তর্গত তবুও কলকাতা লাগোয়া হওয়াতে এই কেন্দ্রের গুরুত্ব অনেক বেশি। যাদবপুর কেন্দ্রের জন্য যেমন ছিলেন মণীষ গুপ্ত অথবা অরূপ বিশ্বাসের মত দক্ষ সংগঠক যাদের কাছে যাদবপুর কেন্দ্রটা হাতের তালুর মধ্যে। কিন্তু লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী হিসেবে মিমি চক্রবর্তী একেবারেই বেমানান। এধরনের একটা গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে এধরনের একজন অনভিজ্ঞ প্রার্থীর নাম প্রস্তাবকে অনেকেই মন থেকে মেনে নিতে পারছে না।কিন্তু দলীয় প্রার্থী কিছু করারও নেই, ইচ্ছে না থাকলেও প্রচার করতে হবে, দেওয়াল লিখতে হবে। এখন দেখার বিরোধীরা এই কেন্দ্রে কাকে প্রার্থী করে। যদি বিজেপি এই কেন্দ্রে কোন হেভিওয়েট প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে তবে লড়াই জমে যাবে। এছাড়া এই কেন্দ্রের একটা বড় অংশ সিপিএমের ভোটার, তারা কি করে সেটাও দেখার। অনেকের বক্তব্য এই কেন্দ্র থেকে স্বয়ং মমতা ব্যানার্জি প্রথমবার প্রার্থী হয়ে জিতেছিলেন আর সেই কেন্দ্রে পরপর তিনবারের প্রার্থী ছিল একেবারেই অপছন্দের তবুও তারাই জিতেছে, সেই হিসাবে এবারের প্রার্থী পছন্দের না হলেও কোনমতে হয়তো জিতে যাবে। কিন্তু আঁখেরে কেন্দ্রের কোন লাভ হবে বলে মনে করছে না যাদবপুর কেন্দ্রের ভোটার সহ কর্মীরা। তারা বলছে আগের দুজন সাংসদের মত মিমিও দুষ্প্রাপ্য হয়ে যাবে। এর আগে যেমন দেখা যায়নি কবীর সুমন বা গতবারের সুগত বসুকে একইভাবে মিমিকেও সেভাবে দেখা যাবে না। এছাড়া সংসদে গিয়ে কি কথা বলবে কেন্দ্রের জন্য এটাও ভাবাচ্ছে সকলকে। এই কেন্দ্রের ভোটাররা বেশ সচেতন তাই তারা এখন থেকেই ভাবতে শুরু করেছে, বাকি এখন বিরোধীদের প্রার্থী তালিকা দেখা।রাতেই শুরু হয়ে গেছে উত্তর সোনারপুর বিধানসভায় দেওয়াল লিখন। ছবি ঃ বুলান ঘোষ।

Leave a Reply