বাংলার মুখ

তাপসের জায়গায় লড়াকু মহুয়াকে দিয়ে বিজেপিকে বুঝিয়ে দিলেন নেত্রী মমতা ব্যানার্জি “এত সহজ নয়”

অম্বর ভট্টাচার্য, এবিপিতকমা, কৃষ্ণনগর, ১৩ই মার্চ ২০১৯ ঃ          এই কেন্দ্রে গত নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী প্রার্থী ছিলেন অভিনেতা তাপস পাল, আজ তিনি ব্রাত্য কারণ এমন একটা মন্তব্য করেছিলেন যেন তিনি কোন সিনেমার শুটিং-এর ডায়লগ বলছেন। এছাড়া তিনি তো আবার চিট ফান্ড কান্ডে অভিযুক্ত। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর থেকে তৃণমূল দলের সাথে দুরত্ব তৈরি হয়ে গিয়েছিল। কেউ সেভাবে তাঁর সাথে কোন যোগাযোগ রাখেন নি। তাকে কোন মঞ্চেও দেখা যায় নি। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে সেই কৃষ্ণনগর কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হলেন করিমপুরের বিধায়ক মহুয়া মৈত্র। সম্প্রতি বিজেপির বিরুদ্ধে এনআরসি-সহ একাধিক ইস্যুতে সরব হতে দেখা যায় শাসকদলের এই লড়াকু নেত্রীকে৷ রাজনৈতিক মহলের মতে মহুয়াকে সেই পরিশ্রমেরই পুরস্কার দিলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ কৃষ্ণনগরের মতো বর্ধিষ্ণু কেন্দ্র থেকে তাঁকে প্রার্থী করে লোকসভায় তৃণমূলের আওয়াজ আরও পোক্ত করার ব্যবস্থা করলেন তিনি। উচ্চশিক্ষিতা মহুয়াকে প্রার্থী হিসাবে পেয়ে স্বভাবতই খুশি কৃষ্ণনগর কেন্দ্রের মানুষ। খুশি মহুয়াও৷ প্রথমেই তিনি ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে৷ বলেন, ‘দল যে দায়িত্ব দিয়েছে তা ভাল করে পালন করার চেষ্টা করব৷ আগামী দিনে বিজেপির বিরুদ্ধে আরও সরব হব৷’ কৃষ্ণনগরের প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ ইলা পালচৌধুরির পরিবারের সন্তান মহুয়া মৈত্র। সে অর্থে নদিয়া জেলার নেতা-কর্মীরা তাঁর পূর্ব পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন৷ একসময় রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেসে যোগদান করেন মহুয়া মৈত্র৷ এরপর কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন৷ ২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনে নদিয়ার করিমপুর বিধানসভা কেন্দ্রে থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে লড়েন। এবং জয়লাভ করেন৷ কংগ্রেসে বিধায়ক অরবিন্দ মণ্ডলের পর ফের ডানপন্থী কোন বিধায়ক ওই কেন্দ্র থেকে জয়লাভ করেন। জানা গিয়েছে, বিধায়ক হিসাবে এলাকায় তাঁর যথেষ্ট সুখ্যাতি রয়েছে৷ এলাকার মানুষের জন্য যথেষ্ট কাজ করেছেন তিনি৷তবে প্রশ্ন এখনও থেকেই যাচ্ছে যদি এই কেন্দ্রে প্রবীণ বিজেপি নেতা সত্যব্রত মুখার্জি (জুলু) হয় তবে লড়াই জোর হবে। জুলু মুখার্জির পরিচিতি যথেষ্ট এবং তিনি এই কেন্দ্রের ভূমিপুত্র, সেই হিসাবে একটা অ্যাডভান্টেজ থাকবেই। তবুও তাপস পাল প্রার্থী না হওয়াতে কেন্দ্রের সাধারণ মানুষ থেকে তৃণমূল কর্মীরা খুশি।এখন শুধু বোতাম টেপার সময়ের অপেক্ষা।

Leave a Reply