বিনোদন

কন্ঠনালিতে ক্যানসার, স্তব্ধ করে দেওয়া নন্দিতা-শিবপ্রসাদের ছবি “কন্ঠ” অনেক মনোবল বাড়িয়ে তুলবে

অম্বর ভট্টাচার্য, এবিপিতকমা, কলকাতা, ১২ই মে ২০১৯ ঃ       গলায় ক্যানসার! বিষয়টা খুবই ভাবনার কারণ নিজেকে প্রকাশ করার অন্যতম পন্থা হল বাকশক্তি মানে কথা বলা আর তা বলার জন্য প্রয়োজন স্বর যা গলা থেকে আসে। সেটা যদি কাজ না করে বা কোন রোগের ফলে সেই শক্তি হারিয়ে যায় তবে তো বড় সমস্যা।আর সেই সমস্যাই হল সিনেমার প্রধান চরিত্র। অর্জুন (শিবপ্রসাদ) এক রেডিও জকি, খুব ধূমপান করে। অর্জুন আর পৃথা (পাওলি দাম) দুজনেই বাচিক শিল্পী। অনেক আগে থেকেই দুজনের সাথে আলাপ, প্রেম আর সেই প্রেম থেকেই জীবন সঙ্গিনী হয়ে যায় পৃথা। কিন্তু তখন কি পৃথা জানতো যে তার জীবনে এরকম একটা দিন নেমে আসতে পারে।নিজের জীবনের সাথে ছেলের জীবনটা এলোমেলো হয়ে যেতে পারে। হঠাৎ একদিন অর্জুনকে “ভয়েস অফ দ্য ইয়ার” পুরস্কার দেওয়া হল আর সেদিনই মঞ্চে দাঁড়িয়ে অর্জুন বুঝতে পারলো তার শরীরের সম্পদ সেই বাকশক্তি সে হারিয়েছে। পরেরদিন চিকিৎসকের কাছে গেলে চিকিৎসক উপদেশ দেয় অবিলম্বে অপারেশন করতে হবে, তবে জীবন বাঁচলেও বাকশক্তি হারাতে হতে পারে। এমন অবস্থায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে অর্জুন ও পৃথা।অপারেশন হল অর্জুনের, হাসপাতালের বিছানায় সে বুঝতে পারলো সে আর কথা বলতে পারছে না। রাগে, অভিমানে, অবসাদে জীবনের উপর ভক্তি হারাতে বসেছে অর্জুন। চিকিৎসক বললেন এবার হয় হাসপাতালে অথবা প্রাইভেটে অর্জুনকে স্পিচ থেরাপি করাতে হবে।কিন্তু অর্জুন হাসপাতালে গিয়ে স্পিচ থেরাপি করাতে গিয়েও ফিরে এলো। সে মানসিকভাবে মেনে নিতে পারছে না যে সে আর কথা বলতে পারবে না। চিকিৎসক প্রাইভেটে স্পিচ থেরাপির জন্য সন্ধান দিল। সেখানেও যেতে রাজি নয় অর্জুন। কিন্তু একদিন নিজেই উপলব্ধি করল স্পিচ থেরাপিটা তার জন্য খুব জরুরী। ছেলেকে নিয়ে সেই স্পিচ থেরাপিস্টের কাছে সরাসরি উপস্থিত হলে রোমিলা (জয়া আহসান) জানিয়ে দেয় ভারতে এসে বিবাহ আর টিকলো না, বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে তাই সে তার কন্যা সন্তানকে নিয়ে ফিরে যাবে বাংলাদেশে। এই মুহুর্তে আর নতুন কোন রোগী দেখা তার পক্ষে সম্ভব নয়।পৃথাকে জানালো অর্জুন, পৃথা নিজে উদ্যোগী হয়ে চিকিৎসার জন্য রাজি করাল রোমিলাকে। থেকে গেল রোমিলা। দিনের পর দিন একেবারে সহানুভূতি ও কড়া শাসনের মধ্যে দিয়ে অর্জুনকে প্রথমে মানসিক দিক দিয়ে সুস্থ করে তুলল। এরপর শুরু হল তার বাক চিকিৎসা। ধিরে ধিরে অর্জুন ফিরে পেল তার বাকশিক্ত কিন্তু সেই বাকশক্তির সাথে আগের কোন মিল নেই। ধিরে ধিরে অর্জুন আবার ফিরে গেল সেই রেডিও জকি হিসেবে। কিন্তু তার এই ফিরে যাওয়ার জন্য ছিল পৃথার সহ্যশক্তি, ত্যাগ, সহানুভূতি ও সহযোগিতা। এই ধরনের রোগীদের জন্য যেটা সব থেকে প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় এই ধরনের রোগীরা পরিবার থেকে সরে যায় বা পরিবার তাদের দূরে সরিয়ে রাখে যেটা খুবই অন্যায়। এদের সবার মাঝে রাখাটা যে কতটা প্রয়োজন তা এই ছবি বুঝিয়ে দিয়েছে। কিন্তু অর্জুনের সাথে রোমিলার গড়ে ওঠা সম্পর্ককে মানতে পারে নি পৃথা তাই সে সরাসরি রোমিলাকে তার অর্জুনের জীবন থেকে সরে যেতে বলে যখন দেখে রোমিলা বেশ উত্তেজিত অর্জুনের রেডিও জকি হিসেবে প্রত্যাবর্তনের জন্য। রোমিলা বুঝতে পারে আর তাই সে আশ্বাস দেয় তাদের সম্পর্ক শুধুমাত্র একজন চিকিৎসক ও রোগীর। তার কাজ শেষ তাই সে ফিরে যাচ্ছে বাংলাদেশে। অর্জুন তার প্রত্যাবর্তনের প্রথমদিনে ভুলতে পারে নি রোমিলাকে। বারে বারে তাকে ফোন করেছে, চেয়েছে তাকে পাশে পেতে কিন্তু রোমিলা নিজেকে শক্ত করে ফিরে গেছে তার দেশে।বিমানবন্দরে যাওয়ার রাস্তায় শুনতে শুনতে গেছে অর্জুনের নতুন কন্ঠস্বর। ফের পুরস্কৃত হল অর্জুন আর সেদিন সে বলতে ভোলে নি রোমিলার অবদানের কথা, ভোলে নি সেই চিকিৎসকের কথা যে পাশে থেকে তাকে ফিরিয়ে দিয়েছিল জীবন, ভোলে নি তার ছেলের কথা, ভোলে নি তার স্ত্রীর কথা, ভোলেনি তার সহকর্মীদের সহযোগিতা কথা উল্লেখ করতে। এই ছবির নেপথ্য যাদের নাম উল্লেখ না করলেই নয় সেই নারায়ানা হাসপাতালের ক্যানসার বিভাগের চিকিৎসকেরা। সাম্প্রয়িক হাইল্যান্ড পার্কের আইনক্সে প্রিমিয়ার শো-তে উপস্থিত ছিলেন ডাঃ পঙ্কজ চতুর্বেদি (টাটা মেমোরিয়াল), ডাঃ সৌরভ দত্ত (নারায়ানা হাসপাতাল, হাওড়া), ডাঃ অশোক কুমার দাস (বি বড়ুয়া ক্যানসার হাসপাতাল, গুয়াহাটি), আর বেঙ্কটেশ (নারায়ানা হাসপাতালের পূর্ব অধিকর্তা), শুভাশিস ভট্টাচার্য (ডিরেক্টর, নারায়ানা হাসপাতাল, হাওড়া), ছবির অভিনেত্রী পাওলি দাম, জয়া আহসান, ছবির নির্দেশক ও অভিনেতা শিবপ্রসাদ মুখার্জি এবং নন্দিতা রায় ও ল্যারিংগেক্টমি ক্লাবের প্রচুর সদস্য যারা এই রোগে আক্রান্ত। নির্দেশক নন্দিতা বলেন, এই ছবি আপনাদের ছবি, এই রোগীদের পাশে সমাজকে থাকতে হবে, মনোবল বাড়াতে হবে। পাওলি দাম বলেন, এরকম একটা সমাজ সচেতনমূলক ছবিতে অভিনয় করতে পেরে সত্যিই নিজেকে ধন্য মনে করছি আজ কারণ সারা বাংলায় এই ছবি ১০০ টা প্রেক্ষাগৃহে হাউস ফুল চলছে। জয়া আহসান বলেন, আমি জানি না কতটা মানুষের মন জয় করতে পেরেছি তবে যে চরিত্রে আমি অভিনয় করেছি তা আমায় ছুঁয়ে গেছে। ডাঃ পঙ্কজ চতুর্বেদি বলেন, জয়া আহসান যেভাবে চিকিৎসকের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন তা খুবই প্রশংসার, চিকিৎসকদের এরকমই ভূমিকা হওয়া উচিত। জয়ার মত এরকম চিকিৎসক যদি সমাজ পায় তবে অনেক রোগী সুস্থ হয়ে উঠবে আর পাওলির কথা তো আর বলার নয়। এরকম জীবনসঙ্গিনী পাওয়া খুবই ভাগ্যের।এরকম রোগীর সব থেকে বড় বন্ধু, বড় ভারসা, বড় উৎসাহ হল তার স্ত্রী আর সেই ভুমিকায় পাওলি খুব সুন্দর অভিনয় করেছে।সতিই সকলের দেখার মত ছবি “কন্ঠ” যা হারিয়ে গেলে মানুষের কি পরিনতি হয় আর সেখান থেকে কিভাবে প্রত্যাবর্তন হয় সেটা দেখার বিষয়। প্রচারে ঃ ক্যানডিড কমিউনিকেশন।

Leave a Reply