You cannot copy content of this page

ফালুন দাফার স্টল, 2021 নিউ টাউন কলকাতা বইমেলায় নতুন কিছুর সন্ধান দিয়েছে

অম্বর ভট্টাচার্য, এবিপিতকমা, কলকাতা, ৬ই মার্চ ২০২১ : নিউ টাউন কলকাতায় সপ্তম বইমেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা 7th March পর্যন্ত চলবে, প্রায় 75 টি বইয়ের স্টল আছে। এখানে একটি উল্লেখযোগ্য স্টল রয়েছে নাম ফালুন দাফার স্টল|

স্টলটি ফালুন দাফার তথ্য, ছবি এবং এর উপকারিতা সম্পর্কিত ব্যানার দিয়ে সজ্জিত। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল জুআন ফালুন এবং ফালুন গোংগ বইদুটো, 40টিরও বেশি ভাষায় অনুদিত। এখানে বইদুটো বাংলায় এবং ইংরেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবীরা ব্যায়াম ও ধ্যান শিখিয়েও দিচ্ছেন।

ফালুন দাফার চর্চা করে 100 টিরও বেশি দেশের 10 কোটিরও বেশি মানুষ স্বাস্থ্যকর দেহ প্রাপ্ত হয়েছেন এবং মানসিক চাপ দূর করতে পেরেছেন। 1992 সালের মে মাসে চীন দেশে মিঃ লি হোংগজি জনসাধারণের মধ্যে এই পদ্ধতিটি প্রবর্তন করেছিলেন। মিঃ লি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার দ্বারা সম্মানিত হয়েছেন; তিনি শাখারভ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন এবং দুবার নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন। ফালুন দাফার 5 টি মৃদু অনুশীলন, নিখরচায় শেখানো হয়, এতে শক্তি নাড়িগুলি খুলে যায়, দেহ বিশুদ্ধ হয়, মানসিক চাপ দূর হয় এবং মনে শান্তি আসে। ব্যায়ামগুলি সহজ, সরল ও কার্যকরী; সব বয়সের উপযুক্ত। এটি বাচ্চা, প্রাপ্তবয়স্ক, গর্ভবতী মা এবং বৃদ্ধ-বৃদ্ধারাও করতে পারেন।

জীবন ও স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার : নিউ টাউন কলকাতা থেকে 65 বছর বয়সী প্রদ্যুত কুমার দে 2020 সালের মার্চ মাসে ফালুন দাফার ব্যায়াম ও ধ্যান অনুশীলন শুরু করেছিলেন এবং এই শিক্ষা তাকে নতুন জীবন প্রদান করেছে।
অবসর গ্রহণের পরে, 2015 সালে তিনি হঠাৎ তাঁর হাত থেকে কনুই পর্যন্ত তীব্র ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছিলেন; তিনি বলেছিলেন, “আমি কোনও কাজ করতে পারতাম না এবং প্রায়শই নিদ্রাহীন রাত কাটাতাম।” কলকাতার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের একজন নামী সার্জন দ্বারা পরিচালিত টেস্টগুলি নিশ্চিত করে যে তার কারপাল টানেল সিনড্রোম হয়েছে। অস্ত্রোপচারের পরেও ব্যথা কমেনি। হঠাৎ করে তাঁর শরীরে এলার্জির প্রকোপ শুরু হয় এবং স্পনডিলাইটিসের পুরনো ব্যথা বাড়তে থাকে। এইসময় তিনি হাঁটু মুড়তে বা সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতে পারতেন না।
ত্বকের চিকিৎসকের পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায় যে রোগটির নাম urticarial vasculitis l তিনি বলেছিলেন, “আমি নিয়মিত যোগাসন করতাম এবং ব্যথা থেকে সাময়িকভাবে মুক্তি পেতাম তবে সম্পূর্ণ স্বস্তি পেতাম না, ধীরে ধীরে আমি বাঁচার ইচ্ছা হারিয়ে ফেলছিলাম ”।

তারপরে 2020 সালের জানুয়ারিতে এল তাঁর জীবনের “টার্নিং পয়েন্ট”। সেই বছরে নিউ টাউন বই মেলার পরে ফালুন দাফার অনুশীলনগুলি তার বাড়ির কাছাকাছি CE ব্লকে শেখানো হচ্ছিল। তিনি সেখানে উপস্থিত থেকে 5 টি অনুশীলন শিখে নিলেন। তারপরে 2020-তে লকডাউনের সময় তিনি প্রতিদিন দুবার করে অনুশীলন শুরু করলেন; প্রত্যেক দিন জুআন ফালুন বইটিও পড়তে থাকেন এবং সত্য, করুণা ও সহনশীলতার আদর্শ অনুসরণ করতে থাকেন। তিনি লিখেছেন, “চার মাস পরে, হঠাৎ একদিন আবিষ্কার করলাম যে আমি আমার হাত দিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে লিখতে পারছি এবং অন্য সব কাজ করতে পারছি, যা আমার কাছে অলৌকিক ঘটনার মতো মনে হোল। কিছু দিন পরে, আরো আনন্দ পেলাম যখন দেখলাম এলার্জি আমাকে আর বিরক্ত করছে না, পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে গেছে, যেন এক নতুন জীবন পেলাম। এখন আমি হাঁটু মুড়ে সব কাজ করতে পারি সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতে পারি, আর কোন ব্যথা বা কষ্ট হয় না।”

তিনি লিখেছেন, “ফালুন দাফা আমাকে নতুন জীবন প্রদান করেছে। আমাকে অসুস্থ শরীর থেকে মুক্তি দিয়েছে, এখন আমি সুস্থ শরীর প্রাপ্ত করে আনন্দময় জীবন উপভোগ করছি এবং ফালুন দাফাকে জনপ্রিয় করার চেষ্টা করছি ”। তিনি সেইজন্য মাস্টার লি হোংগজিকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা এবং শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *