You cannot copy content of this page

মমতা ব্যানার্জির মত উন্নয়ন ভারতের কোন মুখ্যমন্ত্রী করে নি, সোনারপুর উত্তরে এন আর সি-র বিরুদ্ধে অবস্থান মঞ্চে প্রবীর

অম্বর ভট্টাচার্য, এবিপিতকমা, সোনারপুর, ২৮শে ডিসেম্বর ২০১৯ : মমতা ব্যানার্জি এন আর সি-র বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে হাওড়া, ধর্মতলা, রাজাবাজার, জোড়াসাঁকো, যাদবপুর, বেলেঘাটা সহ অনেক জায়গা থেকে একাধিক পদযাত্রা করার পর দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দেন ২৮শে ডিসেম্বর সারা রাজ্যে এন আর সি বিরোধী অবস্থান বিক্ষোভ করতে। সেই নির্দেশ অনুযায়ী সোনারপুর উত্তর বিধানসভায় গড়িয়া স্টেশন, বোড়াল, গড়িয়া মেন রোড ও খেয়াদহ ৪টি অবস্থান বিক্ষোভ মঞ্চ হয়। গড়িয়া স্টেশন এলাকায় সোনারপুর উত্তর বিধানসভা তৃণমূল কংগ্রেস-এর উদ্যোগে কেন্দ্রীয় সরকারের জনবিরোধী নীতি এন আর সি ও সি এ এ-র বিরুদ্ধে এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সংস্থা বিলগ্নীকরণের প্রতিবাদে অবস্থান বিক্ষোভ মঞ্চ উদ্বোধন হয় সকাল ১০টায়। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সোনারপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি প্রবীর সরকার, গড়িয়া আই এন টি টি ইউ সি যুগ্ম আহ্বায়ক পিন্টু দেবনাথ, রাজপুর সোনারপুর পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের পৌরপিতা তথা সি আই সি বিভাস মুখার্জি, ৫ নং ওয়ার্ডের পৌরপিতা তরুণ কান্তি মন্ডল, ৬ নং ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তথা গড়িয়া হকার্স ইউনিয়নের সভাপতি শ্রীমন্ত নস্কর, গড়িয়া টাউন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি তপন দে, খেয়াদহ পঞ্চায়েতের সদস্য বিনয় মন্ডল, সঞ্জয় মন্ডল, বুদ্ধদেব কয়াল, গড়িয়া টাউন যুব তৃণমূলের যুগ্ম আহ্বায়ক জয়ন্ত সেনগুপ্ত, সোনারপুর তৃণমূল কংগ্রেস ছাত্র পরিষদ সভাপতি সমরজিত ব্যানার্জি, তপন মন্ডল সহ অনেকে।

বক্তব্য রাখতে গিয়ে সোনারপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি প্রবীর সরকার বলেন, আজ মানুষ ভারতবর্ষে জন্মে তাঁকে লাইনে দাঁড়িয়ে ভারতের নাগরিক কিনা তার প্রমাণ দিতে হবে? এন আর সি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সময় সময় নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করছেন, একে অপরকে বিতর্কে জড়িয়ে ফেলছেন। ভারতের আজকের জিডিপি রেকর্ডমাত্রায় নেমে গেছে, মানুষের কাছে অর্থ নেই, কাজ নেই, নিরাপত্তা নেই, শিল্প নেই। মানুষ ব্যাঙ্কে নিজের অর্জিত টাকা রেখে নিশ্চিন্ত থাকতে পারছে না।গ্যাসের ভর্তুকি নিয়ে মানুষ অনিশ্চিত। গ্যাসের দাম দিনদিন বেড়ে যাচ্ছে।মানুষকে আতঙ্কিত করে ফেলছেন।আজ সরকার নিজেই স্পষ্ট করে বলছেন না নাগরিকত্বের জন্য কি নথি লাগবে। ধর্মের নামে ভাওতা দিয়ে সরকার চালাচ্ছে এই বিজেপি সরকার। বাজারে সবজি থেকে খাদ্য দ্রব্যের দাম আগুন, ব্যবসা বসে গেছে। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগে বলেছিলেন গরীব আদমি চেন কা নিঁদ সোয়েগা। কোথায় মানুষ আজ নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছে? মানুষের চোখে ঘুম উড়ে গেছে।ভারতবর্ষ এমন একটা রাষ্ট্র যেখানে মানুষ ১২২টা ভাষায় কথা বলে আর সেখানে হিন্দু রাষ্ট্র বলে চিৎকার করে মানুষের নজর ঘুড়িয়ে দিতে চাইছে। একটা রাজ্যের রাজ্যপাল প্রতি মুহুর্তে রাজ্য সরকারকে নিয়ে কটূক্তি করে উত্তক্ত করছে।এটা জোর গলায় বলতে পারি ভারতবর্ষে একমাত্র মমতা ব্যানার্জি যিনি রাজ্যের জন্য প্রতিটা স্তরে, প্রতিটা পরিবারের কথা মাথায় নিয়ে উন্নয়ন করছেন। প্রধানমন্ত্রী হিংসার রাজনীতি ছড়াচ্ছেন আর অন্যদিকে মমতা ব্যানার্জি ভালোবাসার রাজনীতি করছেন। মানুষকে নিয়ে চলছেন মমতা ব্যানার্জি। পাকিস্থান ভারতের উপর নাশকতার আতঙ্ক ছড়াচ্ছে তার মোকাবিলা করতে হবে রাজনীতি দিয়ে, হিংসা দিয়ে নয়। ভারতবর্ষে বিভাজনের রাজনীতি করছেন কেন্দ্রে থাকা বিজেপি সরকার।রাজ্যে এন আর সি আইন করে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করালেন। কে বলতে পারে এটা পূর্ব পরিকল্পিত যে মানুষগুলো আন্দোলনের ভিড়ের মধ্যে থেকে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করেছে তারা বিজেপির এজেন্ট নয়? সেই সময় কে চিনে রেখেছে আন্দোলনের মধ্যে ছদ্মবেশী তৃণমূল সেজে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করেছে বিজেপির এজেন্টরা। তাদের দেখে আন্দোলনকারীরাও সামিল হয়েছে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার জন্য। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার সাম্প্রতিক রাজ্যে তিনটে আসনে উপ নির্বাচনে ধাক্কা খেয়ে বুঝে গেছে এই রাজ্যে পা রাখতে গেলে মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরি করতে হবে। এখানে মানুষ মমতা ব্যানার্জি ছাড়া আর কাউকে বোঝে না। তাই রাজ্য দখন করতে গেলে প্রয়োজন রাষ্ট্রপতি শাসন, আর রাষ্ট্রপতি শাসন করতে গেলে রাজ্যে চরম হিংসা, চরম অরাজগতার পরিস্থিত তৈরি করতে হবে তাই চারিদিকে হিংসা ছড়াতে হবে। তৃণমূলের মধ্যে ছদ্মবেশীদের প্রবেশ করিয়ে দিয়েছে। এভাবে বাংলার মানুষকে বোকা বানানো যাবে না। আমাদের নেত্রী বারবার মানুষকে আশ্বস্ত করেছেন বাংলায় এন আর সি হবে না, এন পি আর হবে না।বেলার দিকে অবস্থান বিক্ষোভে গড়িয়া টাউন তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি বিভাস মুখার্জি বিশাল মিছিল নিয়ে উপস্থিত হন। গড়িয়া স্টেশনের অবস্থান বিক্ষোভ চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *