You cannot copy content of this page

কৃষিবিলের বিরুদ্ধে তৃনমূলের লাগাতার আন্দোলনের ফসল, আজ কেন্দ্রকে ধাক্কা সুপ্রিম কোর্ট

অম্বর ভট্টাচার্য, এবিপিতকমা, সোনারপুর, ১১ই জানুয়ারি ২০২১ : কেন্দ্রের আনা কৃষিবিল কৃষকদের জন্য কতটা ক্ষতিকারক তাই নিয়ে রাজ্যে তৃনমূল নেতৃত্ব বিভিন্ন জায়গায় সভা করে মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করেছে। সাম্প্রতিক সোনারপুর উত্তর বিধানসভার রাজপুর সোনারপুর পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডে সোনারপুর উত্তর বিধানসভার তৃনমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি পাপাই দত্তের উদ্যোগে এক বিশাল পথসভার আয়োজন করা হয়।এই সভায় উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক ফিরদৌসী বেগম, রাজপুর সোনারপুর পৌরসভার প্রশাসনিক সদস্য নজরুল আলি মন্ডল, সোনারপুর উত্তর বিধানসভার তৃনমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি পাপাই দত্ত, ৫ নং ওয়ার্ডের বিদায়ী পৌরপিতা তরুণ কান্তি মন্ডল, সোনারপুর উত্তর তৃনমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি সমরজিত ব্যানার্জি, দঃ ২৪ পরগণা জেলা জয়হিন্দ বাহিনী সভাপতি পল্লবকান্তি ঘোষ, গড়িয়া টাউন জয়হিন্দ বাহিনী সভাপতি ও ৫ নং ওয়ার্ড তৃনমূল যুব কংগ্রেস সভাপতি অরিন্দম দত্ত, ৫ নং ওয়ার্ড জয়হিন্দ বাহিনীর সভাপতি প্রদীপ দাস, মিন্টু কুন্ডু, নরেন্দ্রপুর টাউন ছাত্র পরিষদ সভাপতি নাসির বাগানি, অশোক হোর, পিন্টু দেবনাথ সহ আরও অনেকে।

সভায় বক্তব্য রাখেন বিধায়ক ফিরদৌসী বেগম, নজরুল আলি মন্ডল, নাসির বাগানি, অশোক হোর, পল্লবকান্তি ঘোষ, সমরজিত ব্যানার্জি। সকলের কন্ঠে একটাই কথা উঠে আসে এই রাজ্যে একজন মহিলাকে রুখতে কেন্দ্র থেকে বারেবারে বিজেপি নেতৃত্বকে হানা দিতে হচ্ছে। নাসির বাগানি মাইক ফুকে বলে দেন “বিজেপি” কথাটার মানে “বিষ” কারণ “বি” যদি বাংলায় বলি বিষ, “জে” হিন্দি মানে জহর যার বাংলা মানে বিষ আর “পি” ইংরাজিতে পয়জন যার বাংলা মানে সেই বিষ। এলাকার মানুষকে তিনি সতর্ক করে বলেন জেনে বিষ পান করবেন না। আর “টিএমসি” কথাটার মানে কি, “টি” ইংরাজিতে টেম্পেল বাংলায় মানে মন্দির, “এম” হিন্দিতে মসজিদ আর “সি” মানে চার্চ। মমতা ব্যানার্জি সর্বধর্ম সমন্বয় একটা দল। নজরুল আলি মন্ডল মানুষকে তৃনমূল নিয়ে কোন বক্তব্য রাখেন নি।

তিনি সকলকে একবার চোখ বুজে ভাবতে বলেছেন তৃনমূল দলটা গত ১১ বছরে কি উন্নয়ন করেছে। এটা ভাবলেই মানুষ বুঝবে মানুষের কাছের মানুষটি কে? সকলে এক কথায় স্বীকার করে নেবে একটাই নাম “মমতা ব্যানার্জি”। দিল্লিতে এই ঠান্ডায় গরীব চাষিরা আন্দোলন করছে, মৃত্যু হচ্ছে, আত্মহত্যা করছে কিন্তু কেন্দ্র সরকার তাঁর জনবিরোধী কৃষিবিল পরিবর্তনের কথা ভাবছেন না। তারা ভাবছে দেশের পুঁজিপতিদের কথা। এই কৃষিবিলের মাধ্যমে কিভাবে পুঁজিপতিরা উপকৃত হবে। বাংলাকে এই দলের হাতে তুলে দিলে বাংলার মানুষদের অস্তিত্ব বজায় রাখা মুশকিল হয়ে যাবে। বাঙালি জাতিটাই মুছে যাবে। বাংলায় যে সংস্কৃতি আছে তা বিলীন হয়ে যাবে। যারা যানেন না রবীন্দ্রনাথ কোথায় জন্মেছে, যারা জানে না সহজ পাঠ কে রচনা করেছে, যারা ভারতের জাতীয় সঙ্গীতের মর্জাদা দিতে জানে না তারা বাংলার উন্নয়নের কথা জানবে কিভাবে। যারা জানে দুধে সোনা পাওয়া যায় আর গোবরে করোনা নিরাময় হয় আর থালা বাজালে করোনা পালায় এবং মোমবাতি জ্বালালে করোনা ভয় পায়, এর থেকেই বোঝা যায় তারা শুধু বোঝে ব্যবসা। দুধে সোনা পাওয়া গেলে দুধ বেশি বিক্রি হবে, গোবরে করোনা নিরাময় হলে গোবর বেশি বিক্রি হবে, থালা বাজালে থালার বিক্রি বাড়বে ও মোমবাতি বেশি বিক্রি হবে, তাহলে আদানি বা আম্বানিকে এই ব্যবসার টেন্ডারগুলো পাইয়ে দেওয়া যাবে। ফিরদৌসী বেগম খুব মার্জিত ভাষায় কেন্দ্রকে আক্রমণ করতে রেহাত করেন নি। অশোক হোর তাঁর বক্তব্যে বিজেপিকে আদ্যপান্ত করে ছেড়েছেন। নরেন্দ্র মোদি থেকে অমিত শাহ ও দিলীপ ঘোষ থেকে শুভেন্দু অধিকারীকে চুরান্ত আক্রমণ করেছেন। পল্লবকান্তি ঘোষ বিজেপির চক্রান্তের কারণে গড়িয়া এলাকার শান্তি ও শৃঙ্খলা ভঙ্গ হলে বিজেপিকে ছেড়ে কথা বলবেন না বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন।তিনি বলেন বিজেপির কারণে কোন তৃনমূল কর্মী বা নেতা অত্যাচারিত হলে তাদের রেহাত করবেন না বলেও হুশিয়ারি দেন। সমরজিত ব্যানার্জি সোনারপুর উত্তর বিধানসভার মানুষের পাশে থেকে যেভাবে বিধায়ক ফিরদৌসী বেগম উন্নয়ন করেছেন তার খতিয়ান তুলে ধরেন।

আজ মমতা ব্যানার্জির পথে হেঁটে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট শুনানিতে কৃষকদের আন্দোলনের পাশে দাড়ালেন। সুপ্রিম কোর্ট আজ তাদের মতামতে শুধুমাত্র জানিয়েছেন এই কৃষকবিল অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত নাহলে তারা বন্ধ করবে। যেখানে কৃষকরা আন্দোলন করতে গিয়ে মারা যাচ্ছে সেখানে সরকারের নমনিয়তা দেখিয়ে তা বিবেচনা করা উচিত। প্রয়োজনে এই বিলের পক্ষে একটা কমিটি গড়া উচিত এবং সেই কমিটি দু-পক্ষের মতামত শুনে আলোচনার মাধ্যমে সুরাহার রাস্তা করে সমাধান করাটা বাঞ্ছনীয়। আদালতের এই মতামত প্রকাশ কেন্দ্র সরকারকে সচেতনাতামূলক ধাক্কা দিল এবং আগামীদিন নিয়ে সতর্ক করে দিল।

পথসভা হিসাবে মানুষের উপস্থিত ছিল চোখে পড়ার মত। সব শেষে একটা কথা বলতেই হয় গড়িয়ার কিছু চেয়ার গরম করা আর মঞ্চে ভিড় করা নেতাদের এই সভায় নজরে পড়ে নি। যারা কোনদিন মঞ্চে উঠে দল হোক বা উন্নয়ন হোক বা নেতৃত্বের পক্ষে ভাষণ হোক কোনটাই করতে পারেন না।কোন নেতা আছেন যিনি সকাল হোক আর সন্ধ্যা দলীয় কার্যালয়ে বসে মদ্যপান করে মদের দোকান খোলার বিরুদ্ধে প্রদিবাদী সভায় মুখে মুখোশ লাগিয়ে থাকেন আর কোন নেতা একবার পৌরপিতা খারাপ দুর্নীতিবাজ বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোষ্ট দিয়ে আবার স্বার্থ সিদ্ধি হলে তাঁকে মন্দের ভাল বলে উক্তি করে।তারাই আবার নিজেরাই প্রচার করে গোটা রাজ্যে যখন কারও নাম প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা হয় নি তখন দল তাদের নাম কানেকানে প্রার্থী বলে ঘোষণা করে দিয়েছেন এবং এটাও বলে দিয়েছেন এলাকায় প্রচার করতে।শ্রাদ্ধবাড়ি থেকে স্মরণসভাতেও তারা বাকি রাখছেন না প্রচার করতে। রাজ্যে এখন বিধানসভার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে কিন্তু তারা ইতিমধ্যে পৌরসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন যার কোন ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রী বা নির্বাচন কমিশন দেয়নি।তারা শুধু জানে মঞ্চে তৈলাক্ত হাত দেখিয়ে দু-চারবার মঞ্চে ওঠানামা করে বাজার গরম করতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *