Uncategorized

“রি ইউনিয়ন” ফিরিয়ে দিল রূদ্র ও মনি-র ফেলে আসা ২০ বছরের পুরানো ভালোবাসা

অম্বর ভট্টাচার্য, তকমা, কলকাতা, ৬ই ডিসেম্বর ২০১৮ ঃ      ৯০ এর দশকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্যরত একদল ছেলেমেয়েদের জীবন নিয়ে এম এম আর প্রযোজিত ও মুরারি এম রক্ষিত রচিত গল্প “রি ইউনিয়ন”। কলেজে র‍্যাগিং থেকে লুকানো প্রেম সব কিছু নিয়ে একটা মিষ্টি গল্প “রি ইউনিয়ন”। কেলেজের প্রথম প্রেম করে যমন এক সম্পর্ক বাঁচিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে তেমনই রূূূূদ ও মনিদীপা হারিয়ে ফেলেছে তাদের স্বপ্ন কলেজেই। ট্যালা (ইন্দ্রাসিশ) যমন নিজের জীবন সঙ্গিনী জয়িতাকে (সায়নী) পেয়ে জীবন সুখের করেছে ঠিক তেমনই জেদের বসে আদর্শের চাপে মনিদীপাকে হারিয়েছে রূদ্র। কিন্তু ২০ বছর পর ট্যালা তার আমেরিকায় থাকা কলেজের বন্ধুকে (সৌরভ ও অনিন্দিতা) ভারতে ছুটি কাটাতে আসতে বলে। তারাও স্বস্ত্রীক ভারতে এলে মেন্টাল (সমদর্শী) ছাড়া তাদের সম্পর্ক পূর্ণ হবে না বলে মেন্টালকেও যোগ দিতে হয়। মেন্টাল এলে তাদের আসর হয়ে ওঠে জমজমাট।আসরের সাথে মাঝে মাঝেই উঠে আসে কলেজের সেই ফেলে আসা দিনগুলো। স্মৃতির পাতায় উঠে আসে কত ঘটনা। হঠাৎ মেন্টাল বলে ওঠে সকলে মিলে দার্জিলিং যাবে ছুটি কাটাতে। সকলে রাজিও হয়, কিন্তু দার্জিলিং-এর পরিবর্তে চলে যায় কালিংপঙ। কেন কালিংপঙ? এখানেই ট্যালা জয়িতাকে নিজের মনের কথা ব্যক্ত করেছিল আর একইসাথে জয়িতাও বলেছিল সে ট্যালাকে ভালোবাসে। কিন্তু রস্তায় এমন এক ঘটনার সাথে তারা মুখোমুখি হয় যে তাদের আর সেই গন্থব্যস্থানে যাওয়া হয়ে ওঠে না। পাহাড়ের মানুষ তাদের গাড়ি আটকে অনুরোধ করে তাদের এক খুব প্রিয় একজন অসুস্থ হয়ে পড়েছে, যদি একটু তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে সহযোগিতা করে তবে তারা খুবই কৃতজ্ঞ বোধ করবে।অসুস্থতার কথা শুনে সকলেই রাজি হয়ে যায়। কিন্তু সেই অসুস্থ মানুষটিকে দেখার পরে সকলেই নিজেদের হারিয়ে ফেলে।মানুষটি সেই ২০ বছর আগে তাদের কলেজের ছাত্রনেতা রূদ্র (পরম্ব্রত)। ধ্রুবদাকে পেয়ে তারা তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিয়ে যায় কিন্তু সেখানকার হাসপাতালের ডাক্তার জানিয়ে দেয় এই রোগীকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে। তারা সেভাবেই কলকাতায় নিয়ে এসে ট্যালার বাড়িতে তোলে। সেখানে ধ্রুবদাকে পেয়ে এক সন্ধ্যায় তারা নিজেদের মত রি ইউনিয়নের আয়োজন করে। এই রি ইউনিয়নের আসরে জয়িতা আমন্ত্রণ জানায় মনিদীপাকে (রাইমা)। প্রথমে মনি আসতে না চাইলেও পরে সে রাজি হয়। সন্ধ্যা আধো অন্ধকারে মনি এসে উপস্থিত হলে হঠাৎই দেখে তার সেই মনের মানুষ রূদ্রকে। কিন্তু অনেক অভিমান থেকে সে আসর ছেড়ে যেতে চাইলে বাঁধ সাথে রূদ্র। দুজনকে একলা ছেড়ে সকলে চলে যায় আড়ালে। রূদ্র বলে, সে আজও লড়াই করছে তাকে পাওয়ার আসায়। মনি প্রতিউত্তরে বলে সে কি লড়াই করে নি? সে কি তার রাজনৈতিক বাবা মানস চক্রবর্তী (সব্যসাচী) বিরুদ্ধে গিয়ে তাকে চায় নি। কিন্তু সময় অনেক বয়ে গেছে, তাকে এবার বাড়ি যেতে হবে কারণ তার স্বামী অজয় (অনিন্দ্য ব্যানার্জি) ফিরে আসবে। অজয়ের নাম শুনে ধ্রুব বলে, তার বাবার হয়ে তাকে সেদিন যে মেরেছিল তাকে সে বিয়ে করেছে? ধ্রুব জানায় রাজনীতি নয় অজয়ের টার্গেট ছিল মনি, তাই সে ধ্রুবকে পথের কাঁটা ভাবে মেরে সরিয়ে দিয়ে তাকে বিয়ে করেছে। মনির ভুল ভাঙে, সে জানায় অজয় তার উপর অত্যাচার চালিয়ে গেছে দিনের পর দিন। এই কথা শুনে হঠাৎ ধ্রুব অসুস্থ বোধ করে এবং মাটিতে লুটিয়ে পরে। মনি চিৎকার করে সকলকে ডাকে। তাড়াতাড়ি ধ্রুবকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে ধ্রুবকে দেখে চিকিৎসক বলে এই ধরনের রোগীকে আমেরিকায় নয়ে গেলে ভাল হয়। সবই তো হল কিন্তু নিয়ে যাবে কে? শেষমেশ জয়িতা মনিকে অনুরোধ করে ধ্রুবকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। প্রথমে মনি রাজি হয় নি, কিন্তু যখন জয়িতা তাকে বলে তোমার মনের মানুষ যার জন্য তুমি আজও বেঁচে আছো তাকে নিয়ে গিয়ে সুস্থ করে তুলতে পারলে দুজনে জীবনের শেষদিনগুলো সুখে একসাথে কাটাও, আর যদি তাকে বাঁচাতে না পারো তবে নিজেকে সান্ত্বনা দিতে পারবে যে মানুষটাকে সারা জীবন ভালোবেসে গেছো তার জীবনের শেষদিনে তুমি তার পাশেই ছিলে। মনি রাজি হয়। নিয়ে যায় আমেরিকায়, সুস্থ করে তোলে ধ্রুবকে। এটা একমাত্র সম্ভব হয়েছিল “রি ইউনিয়ন”-এর জন্যই।এই গল্প অনেকের জীবনের সাথে মিলে যাবে, ছবিটা দেখতে দেখতে অনেকে হারিয়ে যাবে তাদের কলেজ জীবনে। ছবিতে অভিনয় করেছে ইন্দ্রশিস রায়, সায়নী ঘোষ, সমদর্শী দত্ত, সৌরভ দাস, অনিন্দিতা বসু, ভরত কৌল, সুভ্রজিত দত্ত সহ অনেকে। সঙ্গিতে ছিলেন রুপঙ্কর, শিলাজিত, রূপম ইসলাম সুরকার জয় সরকার। প্রচারে অতসী ভৌমিক।ছবিঃ রাজীব মুখার্জি।

Leave a Reply