প্রথম পাতা

রঙ-এ শিশা থাকা খুবই বিপজ্জনক হয়ে উঠছে, বিশেষ করে শিশুদের জানালেন সতীষ সিনহা

অম্বর ভট্টাচার্য, এবিপিতকমা, কলকাতা, ১১ই ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ঃ        শিশা একটা ভারী ধাতু এবং এটি মানুষের পক্ষে খুবই ক্ষতিকারক। শিশা ভিত্তিক রঙ থেকে শিশা রক্তে প্রবেশ করলে সেটা মানুষের বিশেষ করে শিশুদের মারাত্মক ক্ষতি করে। শিশুদের মধ্যে শিশা-এর ক্ষতিকর প্রভাব তাদের বৌদ্ধিক ও আচরণগত বিকাশে বাধা দেয়। সেই কারণে শিশা-র প্রভাব থেকে শিশুদের দূরে রাখার বিষয়ে সচেতন হওয়া উচিত। জনস্বাস্থ্যের বিচারে এই বিষয়টিতে নজর দেওয়া উচিত। সেটা না হলে এর জন্য মনুষ্য সমাজকে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে অনেক মূল্য চোকাতে হবে। এনভায়ার্ণমেন্ট ফরেস্ট ও ক্লাইমেট চাঞ্জ মন্ত্রক এই বিষয়ে “দ্য রেগুলেশন অন লেড কনটেন্টস ইন হাউজহোল্ড অ্যান্ড ডেকোরেটিভ পেন্টস রুলস, ২০১৬” শীর্ষক একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ২০১৭-র নভেম্বর থেকে হাউজহোল্ড ও ডেকোরেটিভ পেন্টস-এ লেড-এর মাত্রা বাধ্যতামূলকভাবে ৯০ পিপিএম-এর মধ্যে সীমিত রাখতে হবে।এখানে এমনও বলা হয়েছে যে রং-এর তৈরির পর প্যাকেটের গায়ে লিখে দিতে হবে যে এই রঙ ৯০ পিপিএম-এর বেশি নয়। প্যাকেটের গায়ে থাকা লেবেলে উৎপাদক, সরবরাহকারীর নাম, ঠিকানার উল্লেখ থাকাটা বাধ্যতামূলক। এছাড়াও এই আইনকে প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে নিয়ম করে প্রোডাক্ট পরীক্ষা করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ওই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করবে সেন্ট্রাল পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ড। আইনে সেন্ট্রাল পাওয়ার রিসার্চ ইনস্টিটিউটকে রঙ পরীক্ষা করার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সিপিআরআই-এর প্রধান শাখা ব্যাঙ্গালুরুতে। এছাড়া ভোপাল, গুয়াহাটি, হায়দ্রাবাদ, কলকাতা, নাগপুর, নাসিক ও নয়ডায় এর আঞ্চলিক শাখা আছে। এছাড়াও রয়েছে ন্যাশনাল অ্যাক্রিডিটেশন বোর্ড অব টেস্টিং অ্যান্ড ক্যালিবারেশন ল্যাবরেটরি স্বীকৃত কিছু ল্যাব।

রঙের মধ্যে শিশা-র ব্যবহার বিষয়টি শুধু ভারতে নয়, এটা একটা গ্লোবাল সমস্যা। পৃথিবীর বহু দেশ তাদের দেশে রঙের মধ্যে শিশা ব্যবহার একেবারে নিশিদ্ধ করে দিয়েছে।গত ২০০৬ সাল থেকে টক্সিক্স লিঙ্ক ভারতে রঙের মধ্যে শিশা-র ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে কাজ করে চলেছে। ওই কাজ করতে গিয়ে তারা ভারতের বাজারে বিক্রি হওয়া অসংখ্য রঙের নমুনা-র মধ্যে শিশা-র উপস্থিতি এবং তার মাত্রার বিষয়টি পরীক্ষা করে চলেছে। পাশাপাশি এটাও দেখা গেছে যে ছোট ও মাঝারি রঙ উৎপাদনকারীদের ৯০ পিপিএম-এর কম শিশা ব্যবহার করে রঙ তৈরির ক্ষমতা রয়েছে।

এই প্রসঙ্গে টক্সিক্স লিঙ্ক আঞ্চলিক স্তরে কর্মশালা-র আয়োজন করার প্রস্তাবনা নিয়ে এসেছে। পূর্বাঞ্চলে ওই রকমের কর্মশালায় তারা বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের যেমন স্টেট পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ড, রিসার্চ ইনস্টিটিউশন, চিকিৎসক, এনএবিএল ল্যাব, সিপিআরআই, রঙ শিল্প, নাগরিক সমাজ এবং সংবাদমাধ্যমকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। সাম্প্রতিক এই কর্মশালার আয়োজন করা হয় পার্ক প্রাইম হোটেলে। ওই কর্মশালার উদ্দেশ্য হল, রঙের মধ্যে শিশা ব্যবহারের বিধিনিষেধ সম্পর্কে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা। রঙ প্রস্তুতকারকদের এই বিধিনিষেধ মেনে চলার বিষয়ে যে ধরণের সমস্যা রয়েছে, তার মোকাবিলা করার বিষয় নিয়ে আলোচনা করা। এধরনের সচেতনতা শিবির ও আলোচনা সমাধানের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

এই বিষয়ে অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর টক্সিক্স লিঙ্ক সতীষ সিনহা জানান, এধরনের শিশা ব্যবহার শিশুদের উপর খুব প্রভাব ফেলে। এর ফলে শিশুদের বৃদ্ধি রোধ করে, মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে। কোন বাড়িতে রঙ উঠিয়ে ফের রঙ করতে হয়। যখন সেই পুরানো রঙ ঘষে তোলা হয় তখন শিশাও আবহাওয়ার সাথে উড়ে গিয়ে মিশে যায়, যা মানুষের শ্বাস প্রশ্বাসের মধ্যে দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে। এর থেকে বহু রোগের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে নিঃশ্বাস জনিত বহু রোগ দেখা দেয়। তাই আমরা আপনাদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে চাইছি। দেখা গেছে নামী সংস্থার রঙে ঘোষিত মাপের বাইরে শিশা ব্যবহার করা হয় না কিন্তু স্থানীয় বহু সংস্থার রঙে শিশার পরিমান অনেক বেশি থাকে।যেমন আপনি দেখবেন বহু শিশুদের খেলনায় রঙ ব্যবহার করা হয় তাতেও শিশা থাকে। এই শিশুরা অজান্তেই সেই খেলনা মুখে দেয়। এর মধ্যে দিয়ে শিশুর শরীরে শিশা প্রবেশ করে ক্ষতি করছে।প্রচারে ঃ লঞ্চার্স।

Leave a Reply