প্রথম পাতা বিনোদন

সঙ্গীতের সুর তাল ছন্দকে বাঁচিয়ে রাখতে সুরকার অরূপ ব্যানার্জির “রিমঝিম মধুর সঙ্গীত পুরস্কার ২০১৯”

বিশ্বজিত সাহা, এবিপিতকমা, কলকাতা, ২৩শে এপ্রিল ২০১৯ ঃ    ২০০২ সাল থেকে মুম্বাইয়ের জনপ্রিয় সুরকার অরূপ ব্যানার্জি মুম্বাই, দিল্লি ও কলকাতায় “রিমঝিম মধুর সঙ্গীত পুরস্কার” চালু করেন। এই পুরস্কারের তালিকায় কুমার শানু, উদিত নারায়ণ, কবিতা কৃষ্ণমুর্তি, লীনা চেন্দ্রভরগার, রবীন্দ্র জৈন, সাধনা সরগম, টিনা ঘাই, জয় সরকার, অনন্যা চ্যাটার্জি, স্বাগতালক্ষী, ইন্দ্রানী সেন, মমতা শঙ্কর, সবিতা চৌধুরী থেকে আরও অনেক বড় তালিকা আছে। এবছর রবীন্দ্রসদন প্রেক্ষাগৃহে ২১শে এপ্রিল “রিমঝিম মধুর সঙ্গীত পুরস্কার ২০১৯” অনুষ্ঠান হয়ে গেল। এবার পুরস্কার প্রাপকের তালিকায় ছিলেন কিংবদন্তী সঙ্গীত শিল্পী হৈমন্তী শুক্লা (জীবনকৃতি), বাংলাদেশের জনপ্রিয় নায়ক এম এ আলমগির (জীবনকৃতি), বাংলাদেশের জনপ্রিয় নায়িকা ও সাংসদ সদস্যা সারাহ বেগম কবরী (জীবনকৃতি), বাংলাদেশের সত্ত্বা সিনেমার কাহিনীকার সোহানী হোসেন, বাংলাদেশের সত্ত্বা সিনেমার পরিচালক হাসিবুর রেজা কল্লোল, বাংলাদেশের নায়ক বাপি চৌধুরী, বাংলার সঙ্গীত শিল্পী রাঘব চট্টোপাধ্যায়, নির্দেশক রেশমি মিত্র, অভিনেতা অর্জুন চক্রবর্তী, অভিনেতা খরাজ মুখার্জি, প্রযোজক ঈশিতা সুরানা, সংবাদমাধ্যম এবিপিতকমা-র তরফে সম্পাদক অম্বরনাথ ভট্টাচার্য, বৈদ্যুতিন চ্যানেল এটিএন বাংলা-র পক্ষ থেকে তপন রায় সহ অনেকে। এইদিন সন্ধ্যা সঙ্গীতের সুরে মাতাল। অরূপ ব্যানার্জি প্রায় ৪০ জন নবাগত ও নবাগতা শিল্পীদের নিয়ে ফেলে আসা সেই সব পুরানো বাংলা ও হিন্দি গান পরিবেশন করেন। এরমধ্যে অনেকে বর্তমানে মঞ্চেও সঙ্গীত পরিবেশন করছেন। প্রায় ৭০টির মত গান পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানে এসে হৈমন্তী শুক্লা বলেন, পুরস্কার পেতে তো ভালোই লাগে কিন্তু যখন জীবনকৃতি দেওয়া হয় তখন মনে হয় কেউ বোধহয় বলছে এবার ছেড়ে দিতে। কিন্তু আমি এখন ছাড়ছি না, আমার ভাই অরূপ যদি আমায় নিয়ে কোন গান তৈরি করে আমি রাজি আছি করতে তবে সেই গান সেরকম হতে হবে।খালি গলায় তিনি তিনটি গানের অন্তরা শুনিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করে দেন।অভিনেতা খরাজ মুখার্জি নিজে আবৃত্তি করেন এবং পরে দর্শকদের অনুরোধে গানও করেন। অভিনেতা আলমগির বলেন, আমি মনে করি না আমার জীবনকৃতি নেওয়ার মত বয়স হয়েছে, এখনও কাজ করে যেতে চাই। এরপর তিনি দুকলি গানও শোনান। “তিস্তা নদীর পারে” সিনেমার অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী বলেন, কলকাতায় আমি বহুবার এসেছি, ছবি করেছি। কলকাতা আমার বাসা। এরপর তিনি “স্বাধীনতা” কবিতা আবৃত্তি করে শোনান। সবশেষে উদ্যোগে যার নাম না নিলেই নয় সেই অরূপ ব্যানার্জি বলেন, বর্তমানে সুর হারিয়ে যাচ্ছে, তাল হারিয়ে যাচ্ছে, লয় হারিয়ে যাচ্ছে। একসময় আর ডি বর্মন, কিশোর কুমার, মহঃ রফি, মান্না দে, হেমন্ত মুখার্জি, সলীল চৌধুরী যা দিয়ে গেছেন তা এখনও পুরানো হয়নি। আজও তা অনেক জায়গায় শোনা যায়। আমি চাই নতুন প্রজন্ম সেই ধারাকে বজায় রেখে ভারতের ও বাংলার সংস্কৃতিকে অব্যাহত রাখাবে।এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আজ ভারত-বাংলাদেশের মিলন উৎসব সেই বার্তাই দিয়ে গেল।ছবি ঃ বিশ্বজিত সাহা।

 

Leave a Reply