প্রথম পাতা বিনোদন

নবীন চন্দ্র দাসের জীবন নিয়ে বায়োপিকের থেকেও পূর্ণাঙ্গ চলচিত্র পাভেলের “রসগোল্লা”

অম্বর ভট্টাচার্য, তকমা, কলকাতা, ২৩শে ডিসেম্বর ২০১৮ ঃ            ১৮৬৮ সালে রসগোল্লা আবিষ্কার হয় পশ্চিমবঙ্গে। সেই আবিষ্কারক নবীন চন্দ্র দাসকে নিয়ে এবার বায়োপিক নয় অক্ষয় কুমার পারিজা প্রযোজিত পূর্ণাঙ্গ চলচিত্র তৈরি করলেন নির্দেশক পাভেল। এই সিনেমায় ১৮৫১ থেকে ১৯৭৩ সাল অবধি দেখানো হয়েছে। নবীন চন্দ্র দাসের প্রথম দোকান ছিল জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির সামনে। নবীন চন্দ্র দাস ছিলেন রোমান্টিক ও পরিশ্রমী।উৎকৃষ্ট ও সুস্বাদু মিষ্টির উৎপত্তির পিছনে রয়েছে বয়সে তরুণ এক কারিগরের জীবনসংগ্রাম। সেই কারিগর নিতান্ত কিশোর বয়সেই সংকল্প নিয়েছিল সে একজন ময়রা হবে।পিতৃহারা পুত্রের কথা শুনে মা বেশ উৎসাহিত হন। কিন্তু বাবা মারা যাবার পর পিতৃয়ালয় থেকে বিতারিত হতে হয়।পুত্র এক প্রতিষ্ঠিত মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীর দোকানে কাজ খুঁজে নেয়।কিন্তু নতুন মিষ্টি তৈরির স্বপ্নের জন্য কাজে মন থাকে না আর সেই কারণে তাকে চাকরি খোয়াতে হয়।তরুণ কারিগরের বয়স কুড়িতে পৌঁছেছে এবং তার জীবনে এসে পড়েছে একটি কিশোরীর প্রতি মুগ্ধতা।কিশোরীটি স্বভাবে অতি দুরন্ত ও চপল।আবেগপ্রবণ ওই তরুণ কারিগর বারবার ভাগ্যবলেই সেই কিশোরীর সংস্পর্ষে এসে পড়ে। সেই কিশোরী তাকে একটি নতুন মিষ্টান্ন প্রস্তুত করতে বলে। তরুণটি প্রতিশ্রুতি দেয় যে ওই কিশোরীর মনের মতো সেই নতুন মিষ্টান্ন সে সৃষ্টি করবেই।এরপর তাদের বিবাহ হয়।নবীন স্ত্রী ক্ষীরোদমনির জন্য প্রতিদিন নতুন মিষ্টি তৈরি করতেন।যাত্রাপথে প্রতিবন্ধকতার আর যেন শেষ নেই।নতুন মিষ্টি তৈরিতে বারবার ব্যর্থ হয় নবীন।অর্থাভাবের কারণে ঘরে অশান্তি দেখা দেয়।দোকান ভাল চলছে না, ঋণগ্রস্ত হতে হয় আর তাই অশান্তি লেগেই থাকে।নবীন রাগ করে বাড়ি ছেড়ে চলে যায় প্রায় কোনও নিরুদ্দেশ যাত্রায়।গঙ্গার তীরে বসে থাকতে দেখে এক কীর্তনের দল চলেছে নদীপথে।নবীন তাদের সঙ্গী হয়।আবারও যেন কিছুটা ভাগ্যবলেই তার সামনে খুলে যায় নতুন মিষ্টান্ন আবিষ্কারের সম্ভাব্য পথ। সে বাড়ি ফিরে আসে। এবং নতুন মিষ্টি উদ্ভাবনে সফল হয়।ছবিতে অভিনয় করেছেন শান্তিলাল মুখার্জি (নবীন চন্দ্র দাসের প্রথম পার্টনার চন্ডুবাবু), বিদিপ্তা চক্রবর্তী (মা), খরাজ মুখার্জি (মহেশ), কৌশিক সেন (অমৃত লাল বনিক), অপরাজিত আঢ্য (জমিদার গিন্নি), রজতাভ দত্ত (কালিদাস ইন্দ্র), ব্রত ব্যানার্জি সহ অনেকে। প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন উজান গাঙ্গুলি (নবীন চন্দ্র দাস) ও অবন্তিকা বিশ্বাস (ক্ষীরোদমনি)। ছবিতে সুর দিয়েছেন অর্ণব দত্ত।সাম্প্রতিক ছবির প্রোমোশনে হাওড়ার আইনক্সে নির্দেশক পাভেল জানান, ছবিটি করতে গিয়ে অনেক বই পড়তে হয়েছে, অনেক হোমওয়ার্ক করতে হয়েছে। বর্তমান কলকাতায় দাঁড়িয়ে ১৫০ বছর আগের কলকাতায় শুটিং করতে হয়েছে, সেভাবে সেট সাজাতে হয়েছে। সব থেকে বড় মনোবল হচ্ছেন প্রযোজক অক্ষয় কুমার পারিজা যিনি নিজে একজন ওড়িশাবাসী। প্রচারে ঃ পূজা বসু।

Leave a Reply