প্রথম পাতা

নিজের বায়োপিক মুক্তি অনুষ্ঠানে পঃ আজয় চক্রবর্তী জানান, অক্সিজেন যদি নিঃশ্বাস হয় তবে সঙ্গীত হল প্রঃশ্বাস

অম্বর ভট্টাচার্য, এবিপিতকমা, কলকাতা, ১৫ই এপ্রিল ২০১৯ ঃ       সাম্প্রতিক নন্দন ১ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেল গৌতম হালদারের  নির্দেশনায় প্রখ্যাত শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিল্পী পঃ অজয় চক্রবর্তীর উপর বায়োপিক। অনুষ্ঠানে এসে পঃ অজয় চক্রবর্তী জানান, আমি কখনই প্রচারে আসতে চাই না। আমি চাই পরের প্রজন্ম যাতে কিছু শিখতে পারে। খুব গরীব ঘর থেকে উঠে এসেছি আমি, বলা যায় না খাওয়া ঘর থেকে। অনেক সংগ্রাম করেছি জীবনে, অনেক সাধনা করেছি।তাই ছবির নামকরণ হয়েছে ” অ্যাসেটিক জার্নি অফ এ যোগী”। গৌতমের সাথে বহু বছরের আলাপ, প্রায় ২০ বছর। গৌতম তীল তীল করে সব তথ্য নিজের মত করে জোগাড় করেছে। শেষে যখন আমায় এই ছবির প্রস্তাব দেয় তখন সত্যিই আমার বাকস্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। আমি আজ অভিভুত ও গৌতমের কাছে কৃতজ্ঞ। দেশ ভাগের পর সব ছেড়ে দিয়ে যখন বাবা ভারতে আসেন তখন আমাদের করুণ অবস্থা। সেই সময় থেকে গৌতমের ছবি শুরু। এরপর আমার ভাইকে নিয়ে সঙ্গীত সাধনা। ভাই বিখ্যাত হারমোনিয়াম শিল্পী। জীবন শুরু হয় হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গান পরিবেশনা দিয়ে। আমি জীবনে অনেক ভাল মানুষের সাথে মিশেছি যার জন্য আমি কখনও থেমে যাই নি। আর অর্থনৈতিক সঙ্কট তো থাকেই, আমার মনে হয় জীবনে এই সঙ্কট থাকার প্রয়োজন আছে, না হলে জীবনকে চেনা যায় না। গানটা আমার বিষয় নয়, গানটা আমার নিঃশ্বাস। গান শুধু হয় নিঃশ্বাস ছাড়ার সময়, নেওয়ার সময় তা হয় না। আমি সঙ্গীতের মাধ্যমে একটা ছবি আঁকতে চাই। বহুদিনের পর যে শেষ হয়েছে সেটাই ভাল। এই ছবিতে আমার জীবনের ২৫ ভাগ দেখানো হয়েছে। যারা আমার এই ছবি আজ দেখতে এসেছেন তাদের কাছে আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ। আগামী প্রজন্ম এই ছবি দেখলে মনে সাহস পাবে, উৎসাহ পাবে। আনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নির্দেশক গৌতম ঘোষ, এই ছবির নির্দেশক গৌতম হালদার, সুরকার কল্যান সেন বরাট, শ্রীকান্ত আচার্য্য, পঃ বিজয় কিচলু, পঃ বিক্রম ঘোষ, শিল্পী শুভাপ্রসন্ন, প্রবীণ ফুটবলার প্রদীপ কুমার ব্যানার্জি, প্রবীণ ফুটবলার সুকুমার সমাজপতি সহ অনেকে। এই বায়োপিকের প্রযোজক পঃ অজয় চক্রবর্তীর সহধর্মিনী চন্দনা চক্রবর্তী সকলকে পুষ্পস্তবক দিয়ে মঞ্চে বরণ করে নেন। চন্দনা চক্রবর্তী একজন বড় মাপের সঙ্গীত শিল্পী যিনি পঃ অজয় চক্রবর্তীর সংগ্রামের অন্যতম অনুপ্রেরণা, বর্তমানে শ্রুতিনন্দনের প্রিন্সিপাল।ছবিটিতে পঃ অজয় চক্রবর্তীর সঙ্গীত সাধনা থেকে আজকের অবস্থানের প্রায় অধিকাংশ জীবনটাই তুলে ধরা হয়েছে। দেখানো হয়েছে যখন তার বাবা ভারতে এসে তাঁত বুনতেন। ১৯৭৩ সালে তিনি প্রথম সিনেমায় গান গাওয়ার সুযোগ পান কিন্তু বাবার নির্দেশে তিনি সেই সুযোগ গ্রহণ করেন নি। প্রচারে সাজিটেরিয়াস।

Leave a Reply