You cannot copy content of this page

সোনারপুরে অসহায় অনাহারে থাকা ময়দানের তিন প্রতিভামান খুদে ফুটবলারের পাশে মানবিক বিধায়ক ফিরদৌসী ও গড়িয়া ইস্ট বেঙ্গল ফ্যান ক্লাবে এবং লাল হলুদ ব্রাইট বাহিনী এক মাসের খাদ্য সামগ্রী তুলে দিল

অম্বর ভট্টাচার্য, এবিপিতকমা, সোনারপুর, ১৯শে মে ২০২০ : করোনার ফলে খেলার মাঠে যাওয়া বন্ধ কারণ ময়দানের সব খেলা বর্তমানে স্থগিদ। এরকম অসহায় অবস্থায় লকডাউন পরিস্থিতিতে দিন কাটাতে হচ্ছে ময়দানের অনুর্ধ ১৯-এর বেশ কিছু খুদে খেলোয়াড়দের সোনারপুর উত্তর বিধানসভায়। এই অবস্থায় এই প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা কেউ মাটি কোপাচ্ছে, কেউ সবজি বিক্রি করতে শুরু করেছে। গড়িয়ার নবগ্রামে এরকমই একজনের নাম অনুভব ভট্টাচার্য। শেষ যুব আই লিগে খেলেছে ইউনাইটেড স্পোর্টস-এর হয়ে। গত মরশুমে দুটো গোল আছে তাঁর। বাবা মারা গেছে, অফিসের পেলসন মাত্র ২০০০ টাকা আর একটা দিদি কাজ করে একটা বিউটি পার্লারে। সেটাও লকডাউনের জন্য বন্ধ। গোটা পরিবারের সহায় মাত্র ২০০০ টাকা। সংসারের তারনায় বাধ্য হয়েছে আজ সবজি বিক্রি করতে। অন্যজন বিজয় মন্ডল, সোনারপুরের কাছে হরহরিতলায় থাকে। অনুর্ধ ১৮ দলের মিডফিল্ডার। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের জার্সিতে সকলের নজরে থাকলেও বাড়িতে বাবা অসুস্থ। তাই এই লকডাউন পরিস্থিতিতে অন্যের জমিতে চাষের কাজ করছে, ধান কাটছে সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। অক্লান্ত পরিশ্রমের পর দিন শেষে হাতে পাচ্ছে মাত্র ৩০০ টাকা তাও কাজের নিশ্চয়তা নেই।এভাবেই হারিয়ে যাচ্ছে আরেক প্রতিশ্রুতিবান ফুটবলার সজল বাগ। করোনা শুধু মানুষকে আতঙ্কে ফেলে নি, প্রতিভাকেও নষ্ট করে দিচ্ছে। এদের জন্য প্রধানমন্ত্রী বা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কোন আর্থিক প্যাকেজ নেই। এদের কথা কেউ চিন্তাও করেন না।

বাধ্য হয়ে গড়িয়া ইস্টবেঙ্গল ফ‍্যান্স ক্লাব ও লাল হলুদ ব্রাইট বাহিনী এগিয়ে এসে তাদের পাশে দাঁড়ালো। এদের আবেদনে সাড়া দিয়ে উৎসাহ দিয়েছেন রাজ্যের ক্রীড়া মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তাদের উদ‍্যোগে সাম্প্রতিক বিজয় মন্ডল (ইস্টবেঙ্গল) সজল বাগ (মোহনবাগান) ও অনুভব ভট্টাচার্য্য (ইউনাইটেড স্পোর্টস) এই তিন অনুর্ধ ১৯ ফুটবলারদের হাতে কিছু খাদ‍্য সামগ্রী তুলে দেওয়া হলো দুই সংগঠনের পক্ষ থেকে। একই সাথে সোনারপুর উত্তর বিধানসভার বিধায়ক ফিরদৌসী বেগম রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের নির্দেশে এই তিন ফুটবলারের বাড়িতে গিয়ে নিজের হাতে খাদ্য সামগ্রী তুলে দেন যাতে আগামী এক মাস তাদের খাবারের চিন্তা করতে না হয়।বিধায়ক ফিরদৌসী বেগমের সাথে ছিলেন সোনারপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি প্রবীর সরকার।

লাল হলুদ ব্রাইট বাহিনী ও ইস্টবেঙ্গল ফ্যান ক্লাব গড়িয়ার পক্ষে থেকে উজ্জ্বল মিস্ত্রি ও সোহম ভট্টাচার্য আমাদের জানান ক’দিন আগে সকালে আমরা আচমকা পেপারে দেখতে পাই ময়দানের তিন প্রতিশ্রুতিমান অনুর্ধ ১৮ ফুটবলার বিজয় মন্ডল (ইস্টবেঙ্গল), সজল বাগ (মোহনবাগান) ও অনুভব ভট্টাচার্য (ইউনাইটেড স্পোর্টস) খুবই আর্থিক অনটনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।করোনার গ্রাসে ফুটবল জীবনে কালো অন্ধকার জীবন নেমে এসেছে। বাড়ির আর্থিক অবস্থা একদমই ভালো নয়। বাধ্য হয়ে পেটে দুবেলা অন্ন জোগাড়ের জন্য কেউ মাটি কোপানোর কাজ করছে আবার কেউ সবজি বিক্রি করছে। আমরা তখন থেকেই এদের বাড়ির খোঁজ চালাতে থাকি। অনেক চেষ্টা চালিয়ে ওদের বাড়িতে আমরা আগামী ১ মাসের খাদ্যসামগ্রী তুলে দিয়ে আসি, আমাদের সাথে স্থানীয় বিধায়ক ফিরদৌসী বেগম নিজে উপস্থিত হয়ে তাদের সহযোগিতা করেন। বিধায়কের এই মানসিকতা আমাদের আরও উৎসাহিত করে।

সোনারপুর উত্তর বিধানসভার সি আই সি তথা এই বিধানসভার মূল সংগঠক নজরুল আলি মন্ডল নিজে একজন ক্রীড়া প্রেমিক। প্রতি বছর সোনারপুর উত্তর বিধানসভায় অল বেঙ্গল স্পোর্টস কার্নিভালের আয়োজন করে থাকেন। তিনি থাকতে এই খুদে ফুটবলারদের কোনরকমের আর অসুবিধা হবে না বলে মনে করা যেতে পারে। কিন্তু সব থেকে যেটা অতি বেদনার এই বিধানসভায় ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবের একজন প্রতিষ্ঠিত সমর্থক ও ক্রীড়াপ্রেমী হয়েও তাদের পাশে থাকতে পারলেন না। কিন্তু তিনি মাঝে মাঝেই ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবের খেলায় দেশে হোক আর বিদেশে হোক মাঠে গিয়ে ছবি ছেড়ে বোঝান যে তিনি কত বড় ক্রীড়াপ্রেমী।বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি ইস্ট বেঙ্গল প্রধান দলের নামজাদা খেলোয়াড়দের নিয়ে এসে নজির সৃষ্টি করেন। আজকের এই করুণ অবস্থায় তিনি তো পারতেন এই খুদে ফুটবলারদের পাশে দাঁড়াতে? একবার কি তিনি পারতেন না এই অসহায় ফুটবলারদের পাশে দাঁড়াতে? তাতে তাঁর ভোট এতটুকুও কমতো না, বরং তাঁর মানবিকতার পরিচয় প্রাধান্য পেত অনেক বেশি।অবশেষে এই তিন ফুটবলারের অসহায়ের সাথী এই দুই ফ্যান ক্লাব ও বিধায়ক।

Follow us at : www.facebook.com/abptakmaa.newspaper/
www.twitter.com/abptakmaa

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *