খবরাখবর প্রথম পাতা

রাজ্যে স্কুলশিক্ষার ভোলবদলে হচ্ছে ওয়েবসাইট ও ই-পাঠ্যক্রম

অম্বর ভট্টাচার্য, তকমা, কলকাতা, ৬ই ডিসেম্বর ২০১৮ ঃ    সিবিএসই-আইসিএসই বোর্ডের আদলে শ্রেণীকক্ষে আধুনিক প্রযুক্তি এবং ই-কনটেন্টের গুরুত্ব বাড়তে চলেছে রাজ্যের স্কুলশিক্ষায়। প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত পাঠ্যসূচী ও পাঠ্যক্রমের সব বিষয়বস্তু একত্রে আনতে তৈরী হতে চলেছে পৃথক ওয়েবসাইটও। স্কুলশিক্ষা সচিবের পৌরোহিত্যে এক বৈঠকে এ ব্যাপারে বিশদে আলোচনা হয়।
স্কুল পড়ুয়াদের একঘেয়েমি কাটাতে ও ক্লাসরুমে আকর্ষণ বাড়াতে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত ধাপে ধাপে ছাত্রছাত্রীদের ডিজিটাল পাঠে রপ্ত করাতে চায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। সেই লক্ষ্যে অ্যানিমেশন ও রিয়েল লাইফ ডকুমেন্টরি ও মুভিং পিকচার বানানো হবে। প্রাথমিকের পাশাপাশি উচ্চপ্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিকেও প্রযুক্তির গুরুত্ব বাড়তে চলেছে। আর শুধু পঠনপাঠনই নয়, প্রস্তাবিত ওয়েবসাইটে কন্যাশ্রীর যাবতীয় তথ্য, বিভিন্ন স্তরে সরকারি বৃত্তি প্রকল্প, গত ছ’মাসের গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তিও আপলোড করা থাকবে। যাতে এক ক্লিকেই সবাই চাহিদামতো যাবতীয় তথ্য পেতে পারেন।
গতানুগতিক পাঠ্যপুস্তকের পরিবর্তে প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে বিষয়বস্তু তৈরী করে তা ক্লাসে পড়ানো হবে। প্রজেক্টরের মাধ্যমে পঠনপাঠনকে জীবন্ত করে তোলা হবে। সে জন্য কখনও চলমান আবার কখনও স্থির ছবি ব্যবহার করে পড়ুয়াদের নানা বিষয়ে পড়ানো ও বোঝানো হবে। এই জন্য শুট্যিংয়েরও ব্যবস্থা করা হবে।
কিন্তু এ সবের জন্যে সর্বাগ্রে দরকার শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ। সে জন্য অবশ্য ইতিমধ্যে বিকাশ ভবন স্কুল শিক্ষকদের প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। ই-কনটেন্ট তৈরীর আগে রাজ্যের স্কুলগুলিতে স্মার্ট ক্লাসরুম গড়ারও উদ্যোগ নিয়েছিল রাজ্য সরকার। সে জন্য স্কুল-পিছু নির্দিষ্ট অনুদানও বরাদ্দ হয়েছে।
রাজ্যের কয়েক হাজার মাধ্যমিক স্কুলে ইতিমধ্যে প্রজেক্টরের মাধ্যমে শ্রেণীকক্ষে হাতে-কলমে শিক্ষার জন্য কেয়ার্ন নামে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়েছে। এর মাধ্যমেই ছবি দেখিয়ে স্ক্রিনে পাঠ্যবই ও বিষয়বস্তু দেখানো-পড়ানো হবে।

Leave a Reply