You cannot copy content of this page

রাজপুর সোনারপুর পৌরসভার ৩৫ নং ওয়ার্ডের পুরপিতা দিদির জনসংযোগের নির্দেশের বিপরীতে গিয়ে একি বললেন?

অম্বর ভট্টাচার্য, এবিপিতকমা, সোনারপুর, ১৬ই আগস্ট ২০১৯ : রাজপুর সোনারপুর পৌরসভার ৩৫ নং ওয়ার্ডে ওয়ার্ডের পৌরপিতা গৌরহরি দাসকে ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ দেখালেন জলমগ্ন পাড়ার মহিলারা । গত ১৬ই আগস্ট ২০১৯ শুক্রবার সন্ধ্যায় রামকৃষ্ণ মিলন সংঘ এর মহিলারা তাদের দীর্ঘদিনের জ্বলন্ত সমস্যা জলমগ্ন পাড়ার রাস্তা নিয়ে পৌরপিতা গৌরহরি দাসের কাছে অভিযোগ জানাতে যান । প্রথমে গৌরহরি দাস অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে বৃষ্টিভেজা মহিলাদের কথা শুনতে অস্বীকার করেন।তারপর নাছোড়বান্দা মহিলারা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।বিক্ষুব্ধ মহিলারা গৌরহরি দাসকে জানান যে, রামকৃষ্ণ সরনীতে তাঁদের পাড়ার রাস্তাটা দীর্ঘদিন ধরে মেরামত করা হয় না, কিংবা জলনিকাশির ব্যবস্থা না করায় সামান্য বৃষ্টিতেও ৪ থেকে ৫ দিন ধরে জল জমে থাকে।এরফলে পাড়ার মহিলা ও শিশুদের ভীষণ অসুবিধা হয়।বহুদিন ধরে ঘরের সামনে এইভাবে জল দাঁড়িয়ে থাকায় পচা দুর্গন্ধময় পরিবেশের মধ্যে তাঁদের বসবাস করতে হয়।তাঁরা এমনও বলেন যে, জলের রিজার্ভারের থেকে তাঁদের প্রয়োজন জলনিকাশি ব্যবস্থা করতে।বিক্ষুব্ধ মহিলাদের সমস্যার সমাধান করতে অপারগ বলে সরাসরি জানিয়ে দিলেন পৌরপিতা গৌরহরি দাস।পৌরপিতা বলেন তাঁর কাছে কোনো পৌরসভার ফান্ড নেই, তাই কোনো উন্নয়নের কাজ তিনি করতে পারছেন না।বিক্ষুব্ধ মহিলাদের মধ্যে কেউ জিজ্ঞেস করেন যে, কাউন্সিলারের বাড়ির সামনে রাস্তাটা ঢালাই করতে ফান্ড আসলো কোথা থেকে? উত্তরে কাউন্সিলার গৌরহরি দাস বলেন, তাঁর বাড়িতে একটা পৌরসভার হাসপাতাল আছে তাই তাঁর বাড়ির সামনে ঢালাই রাস্তা হয়েছে ।

তৃণমূলের কাউন্সিলার ও ৩৫ নং ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি গৌরহরি দাস বিক্ষোভকারীদের বলেন পৌরসভার চেয়ারম্যান ও বিধায়ক ফিরদৌসী বেগমকে জানাতে তাদের রাস্তা ও ড্রেনের জন্য । বৃষ্টিস্নাত বিক্ষোভকারী মহিলাদের সহযোগিতা করতে গৌরহরি দাস সম্পূর্ণ হাত তুলে দেন। বিক্ষোভকারীরা যখন তাঁদের পাড়ার রাস্তা ও ড্রেনের উন্নয়ন নিয়ে একপ্রকার নাছোড়বান্দা তখন কাউন্সিলার গৌরহরি দাস লিখিত ভাবে জানান ফান্ডের জন্য তিনি কিছু করতে পারছেন না । যেখানে রাজ্যে সর্বত্র উন্নয়নের জোয়ার চলছে সেখানে তৃণমূলের এই কাউন্সিলারের মুখে এই কথা শুনে বিক্ষোভকারীরা পিছু হঠেন।যেখানে মানুষ ভোট দিয়ে কাউন্সিলারকে জেতায় সেখানে কাউন্সিলারই মানুষকে নিধান দিলেন বিধায়কের কাছে দরবার করার জন্য।বাংলার মুখ্যমন্ত্রী যখন তাঁর দলের জনপ্রতিনিধিদের জনসংযোগ করার বার্তা দিচ্ছেন , তখন তাঁরই দলের কাউন্সিলারের এহেন আচরন দিদির চিন্তার ভাঁজ ফেলবেই । বলাবাহুল্য যে, বিগত লোকসভা ভোটে এই প্রথম ওয়ার্ড যেখানে বিজেপি কাউন্সিলার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ১৪০০ ভোটে তৃণমূলকে পরাজিত করে। মানুষের সাথে দুর্ব্যবহার ও উন্নয়নের নামে প্রহশনের কারণেই পুরপিতা গৌরহরি দাসকে গত লোকসভায় তাঁর নিজের ওয়ার্ড থেকে হারতে হয়েছে।তবে কি তিনিও বিজেপির দিকে ঝোঁকার ভাবনা চিন্তা নিচ্ছেন? ২০২০ সালের পুর নির্বাচনে কি তিনি বিজেপির টিকিটে প্রার্থী হবার কথা ভাবছেন?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *