You cannot copy content of this page

রাজপুর সোনারপুর পৌরসভার ৩৫ নং ওয়ার্ডে চরম উত্তজনার সূত্র তৃণমূলের সাধন মিস্ত্রি

অম্বর ভট্টাচার্য, এবিপিতকমা, সোনারপুর উত্তর, ১৮ই জুন ২০১৯ ঃ গত ১৩ই জুন ২০১৯ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৮ টায় রাজপুর সোনারপুর পুরসভার ৩৫ নং ওয়ার্ডের সর্বস্তরের তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের নিয়ে সভাপতি ও পুরপিতা গৌরহরি দাস সভা করলেন তাঁরই বাড়িতে মহা গন্ডগোল ও মারামারির মধ্য দিয়ে । স্হানীয় কর্মীদের মধ্যে কাউন্সিলারের ওপর উপর্যুপরি ক্ষোভ তাঁকে এই মিটিং ডাকতে বাধ্য করে । কিন্তু পুরনো কর্মী বলে একদা পরিচিত , অথচ যিনি পার্টির মিটিং মিছিলে বিগত সাত আট বছরে কোনো অংশগ্রহণ করেন নি , সেই জনৈক স্বঘোষিত নেতা সাধন মিস্ত্রির অতি সক্রিয়তা , ভোট পরবর্তী সময়ে একটি উল্যেখযোগ্য ঘটনা । এই ঘটনায় পার্টির সক্রিয় কর্মীদের মনে গভীর অসন্তোষ দেখা দিয়েছে । পৌরপিতা গৌরহরি বাবুর শারীরিক অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে শ্রী সাধন মিস্ত্রি কিছু অসাধু তোলাবাজ কর্মীদের নিয়ে ঘন ঘন মিটিং তাঁর বাড়িতে করে চলেছেন বলে স্থানীয় কর্মীরা অভিযোগ করেছেন । স্হানীয় তৃণমূলের এই তথাকথিত সাধন মিস্ত্রি কোনো দিন দলকে জেতানোর জন্য ভোটের কাজে অংশগ্রহণ করেন নি বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন । উক্ত সভা চলাকালীন বিভিন্ন কর্মী মতামত দেন যে, বহুবার বিভিন্ন কমিটি গঠন করা হয়েছে কিন্তু সেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে কোনোদিন কাজ করতে কাউন্সিলারকে দেখা যায় নি । সুতরাং এই কমিটি তৈরি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই । কিন্তু সাধন মিস্ত্রি তা মানতে নারাজ । তিনি এই সভায় তাঁর ভাই প্রিয়তোষ মিস্ত্রিকে নিয়ে এবং তার পাড়ার কিছু বাংলাদেশের নাগরিক যারা কোনো দিন দলের কাজে ছিল না, তাদেরকে নিয়ে এই সভায় কিছু পুরনো সৎ কর্মীদের ওপর চড়াও হন । কারণ তিনি দলের সভাপতি হবেন এবং ওয়ার্ডে দলের কাজে প্রধান হতে চান । ইন্দ্রজিৎ সাহা সভায় বলেন যে বিধায়ক এই ওয়ার্ডে যখন কোনো কাজ করেন নি, তখন এখানকার কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে তাঁর কোনো কথা শোনা হবে না । এর প্রতিবাদে দেবাশিস দাস, সোনা দাস, আশিস কর্মকার, রাজা নস্কর প্রভৃতি সোচ্চার হন । সাধন মিস্ত্রি বলেন বিধায়ক আমাদের কোনো কাজে লাগবে না, সুতরাং তাঁর কথায় কমিটি বানানো হবে না । এই নিয়ে একপক্ষ যখন বিধায়কের নির্দেশকে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত বলে গ্রহণ করে নিতে চান, তখন তাদের সাথে সাধন মিস্ত্রির গ্রুপের প্রচণ্ড বাক্ বিতণ্ডা চলে । সাধনের পক্ষে ছিলেন ইন্দ্রজিৎ সাহা, সৌরভ প্রধান, উত্তম ঘোষ । অপরদিকে যারা বিধায়কের সিদ্ধান্ত মতো কমিটি চান, তারা দেবাশিস দাস, সোনা দাস, আশিস কর্মকার, কালুসিং, রাজা নস্কর, ঝুমা দাস, দেবু সেনগুপ্ত, লাল্টু দত্ত ও অনেকে। প্রবল বাক্ যুদ্ধ হতে হতে যখন কমিটি গঠন প্রায় অসম্ভব হয়, তখন সাধন ও তার ভাই ও সঙ্গী বাংলাদেশের কয়েকজন মাটি ঠেলাওয়ালারা হঠাত্ মারামারি শুরু করে । অনেক কর্মী প্রশ্ন তুলেছেন যে , সাধন মিস্ত্রি যিনি নিজের নাম সইটা ঠিক মতো করতে পারে না, সে ওয়ার্ডের সভাপতি হওয়ার দাবী করে কীভাবে?? অভিযোগ যে, সাধন মিস্ত্রিকে কোনো দিন ৩৫ নং ওয়ার্ডের দলীয় কাজে পাওয়া যায় না, তাকে সভাপতি করলে পুরো ওয়ার্ড বেচে দেবে । যাইহোক সেদিনের সভায় সাধন মিস্ত্রি কিছু কর্মীদের গায়ে হাত তুলে 35 নং ওয়ার্ডের পুরনো কর্মীদের রোষানলে পড়েছেন । এ নিয়ে নরেন্দ্রপুর থানায় সাধন মিস্ত্রির নামে একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে । স্হানীয় মানুষ বলছেন ৩৫ নং ওয়ার্ডের তৃণমূলের মধ্যে এখন দুটি গ্রুপ – একটা তোলাবাজ গ্রুপ, যার নেতৃত্বে সাধন মিস্ত্রি , আর একটি বিধায়কের গ্রুপ যারা প্রকৃত মানুষের জন্য কাজ করেন । সভাপতি গৌরহরি এই তোলাবাজ গ্রুপকে সমর্থন করায় ৩৫ নং ওয়ার্ডের সাধারণ কর্মী থেকে সাধারণ মানুষ সবাই অত্যন্ত ক্ষুব্ধ । এরজন্য দলের নেতৃত্বের উদাসীনতাকে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন । গতকাল রাত ১২.৩০ মিনিটে রানিয়ার অরবিন্দনগরে মুড়ি মুড়কির মত বোমা পড়ে। বোমা মারা হয় স্থানীয় দুটি বিল্ডার্সের দোকানে। বোমার আঘাতে দোকানের শাটার উড়ে যায়। স্থানীয় মানুষ এতে রাজনীতির গন্ধ পাচ্ছে। এলাকার মানুষ মনে করছে সাধন মিস্ত্রি গোষ্ঠী এলাকায় সন্ত্রাসের আবহ তৈরি করছে। এলাকায় পুলিশ টহল দিচ্ছে। মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিগত লোকসভা নির্বাচনে একমাত্র এই ওয়ার্ডে বিজেপি ১৩৯৭ ভোটে জিতেছিল আর এই সাধন মিস্ত্রি এই বোমাবাজি ও গোষ্ঠীকন্দলের পরিস্থিতি তৈরি করে বিজেপিকে আরও পোক্ত জায়গা করে দিচ্ছে আগামী পুরসভা নির্বাচনে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *